অ্যান্টলান্টিক মহাসাগরীয় দাসপ্রথায় ব্রিটেনের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার বিবেচনার কারণে দেশের সাধারণ করদাতাদের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বা খরচ চাপবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড (Ed Miliband)। বিবিসি-র নিউজকাস্ট (Newscast) পডকাস্টে কথা বলার সময় তিনি স্পষ্ট জানান যে অতীতকে অস্বীকার না করে তার মুখোমুখি হওয়া দুর্বলতা নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পরিচায়ক।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ব্রিটিশ সরকারগুলো দাসপ্রথার মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি “কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখার” মানসিকতা পোষণ করেছিল। প্রায় দুই দশক আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও পরে তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। এছাড়া সামোয়াতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে এ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল উল্লেখ করে মিলিব্যান্ড জানান, দীর্ঘদিনের এই অমীমাংসিত ইস্যুটি এড়িয়ে না গিয়ে তার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের (Andy Burnham) সরকার ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সাথে “কাঠামোগত আলোচনা” শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকার স্পষ্ট করেছে যে যুক্তরাজ্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে না, তবে আনুমানিক ২০২৭ সালের নভেম্বরে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ (G20) সম্মেলনের সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষমা প্রার্থনা পেশ করা হতে পারে। মিলিব্যান্ড আরও উল্লেখ করেন যে, দাসপ্রথার ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষকে অমানবিক পরিবেশে জাহাজে করে স্থানান্তর করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে শত শত হাজার মানুষ পথেই মারা যায়। ইতিহাসকে সঠিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল কমনওয়েলথ দেশগুলোর সাথে নতুন ও ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।





