যুক্তরাজ্যে বকেয়া জমার কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ব্যর্থ গ্রাহকদের বাড়িতে আদালতের ওয়ারেন্ট জারি করে জোরপূর্বক প্রিপেইড বা প্রি-পে মিটার (Prepay Meter) বসানোর ওপর চার বছর ধরে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অফজেম’ (Ofgem)। ফলে বিশাল অংকের রেকর্ড ১১২ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ ও জরিমানা সমন্বয় পরিশোধের পর চলতি শীত মৌসুমে ফের এই কার্যক্রম পুনরারম্ভ করার সুযোগ পেল জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ব্রিটিশ গ্যাস’ (British Gas)।
এর আগে রাশিয়ার গ্যাস সংকটের সময়ে দুস্থ, বয়োবৃদ্ধ ও মানসিক প্রতিবন্ধী গ্রাহকদের ঘরে অন্যায়ভাবে প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য ব্রিটিশ গ্যাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্য টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত শেষে ও কঠোর নীতিমালা মানার প্রতিশ্রুতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় মানবাধিকার ও জ্বালানি সংকট নিরসনকারী সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কেননা ধারণা করা হচ্ছে, শীতের শুরুতে এই পদক্ষেপ হাজার হাজার নিম্নআয়ের পরিবারের ওপর মানসিক চাপ ও বকেয়া সংক্রান্ত আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি করবে।
ব্রিটিশ গ্যাস কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের জ্বালানি বকেয়ার পরিমাণ ইতোমধ্যে ৭ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে, যার ভার সাধারণ গ্রাহকদের বিলের ওপর পড়ছে। তবে তারা নিশ্চিত করেছে যে, অসচ্ছল পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রিপেইড মিটার বসানোর সিদ্ধান্তটি কেবল সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হবে এবং আবেদনের আগে অন্তত ১০ বার যোগাযোগের চেষ্টা ও সশরীরে পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নিয়মাবলী কঠোরভাবে মেনে চলা হবে। অফজেম স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, দুই বছরের কম বয়সী শিশু কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বাড়িতে কোনোভাবেই এমন বাধ্যতামূলক মিটার বসানো যাবে না।





