১৯৯৮ সালের নভেম্বরে চিলি থেকে শুরু হওয়া এক অভূতপূর্ব পদযাত্রার দীর্ঘ ২৮ বছর পর নিজ শহর হাল (Hull)-এ স্বজনের কাছে ফিরেছেন ব্রিটিশ দুর্ধর্ষ অভিযাত্রী কার্ল বুশবি (Karl Bushby)। সম্পূর্ণ অবিচ্ছিন্ন পায়ে হেঁটে চলা ভ্রমণের লক্ষ্য নিয়ে চার মহাদেশ অতিক্রম করা এবং ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হওয়া এই অভিযাত্রী প্রায় ৩১ হাজার মাইল (৫৮ হাজার কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে তাঁর শৈশবের ভিটেমাটিতে পৌঁছান।
হাল-এর ইস্ট হ্যালের রাস্তায় পৌঁছানোর পর হাজারো সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্বজনরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। শৈশবের বাড়ির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ সময়ের দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে মা এঞ্জেলা বুশবীর (Angela) কোলে ঝাঁপিয়ে পড়েন কার্ল। অশ্রুসজল চোখে মা এঞ্জেলা কার্লকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলে ওঠেন, “কোথায় ছিলে এতদিন?” কার্লের এই ঐতিহাসিক যাত্রার শেষ মুহূর্তটি ধারণ করতে জার্মানির বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ভার্নার হার্জগ (Werner Herzog) স্বয়ং সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যিনি কার্লের জীবনের এই অবিশ্বাস্য কীর্তি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করতে যাচ্ছেন।
কার্ল বুশবীর এই দীর্ঘ অভিযানে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রখ্যাত অভিযাত্রী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই সংবর্ধনায় যোগ দেন। ওকলাহোমার বিজু কুরিয়ান এবং ফরাসি অভিযাত্রী দিমিত্রি কিফার (যিনি কার্লের সাথে ২০০৬ সালে বেরিং প্রণালী অতিক্রম করেছিলেন) যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি হাল-এ আসেন তাঁকে স্বাগত জানাতে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম কার্লের সংকল্প ও দৃঢ় মানসিকতার প্রশংসা করে একটি বিশেষ অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।
অভিযান শেষ করার পর কার্ল বুশবি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, সেনা পটভূমি থাকা সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী মানুষের উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং অচেনা মানুষদের সীমাহীন ভালোবাসা ও আতিথেয়তা তাঁর জীবনদর্শন বদলে দিয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর সাধারণ নাগরিক জীবনে ফিরে আসা এবং সমাজের সাথে মানিয়ে নেওয়াকেই নিজের জন্য পরবর্তী প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন এই কিংবদন্তি অভিযাত্রী।






