যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ এবং আইল অব উইটের মধ্যবর্তী সোলেন্ট প্রণালিতে সগর্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে উনিশ শতকে নির্মিত এক ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়ান সামুদ্রিক দুর্গ—‘নো ম্যানস ল্যান্ড ফোর্ট’ (No Man’s Land Fort)। রূপকথার গল্পের মতো নাটকীয় এই দুর্গের ইতিহাস যেমন চমকপ্রদ, তেমনি এর বিচিত্র রূপান্তর বিশ্বজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
রানি ভিক্টোরিয়ার শাসনামলে ফরাসি আক্রমণ থেকে পোর্টসমাউথের নৌ-শিপইয়ার্ড রক্ষা করতে পামারস্টন ফোর্টস প্রকল্পের অধীনে এটি নির্মিত হয়। প্রায় ২০ বছর ধরে নির্মিত এই বৃত্তাকার কৃত্রিম দ্বীপটিতে ৮০ জন সেনা ও ৪৯টি কামান ধারণের ব্যবস্থা ছিল। তবে নির্মাণকাজ শেষ হতে হতে সামরিক প্রযুক্তি বদলে যাওয়ায় এটি সরাসরি কোনো যুদ্ধে অংশ নেয়নি। পরবর্তীতে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহারের পর, ১৯৯০-এর দশকে এটিকে একটি বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তর করা হয়। রেস্তোরাঁ, হেলিপ্যাড ও সুইমিং পুল সমৃদ্ধ এই হোটেলটি পরবর্তীতে আর্থিক সংকটে পড়ে এবং ২০০৮ সালে মালিকানা রক্ষা করতে ডেভেলপার হারমেশ পুনি নিজেকে ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো অদ্ভুত ঘটনার জন্ম দেন। বর্তমান সময়েও ব্রিটিশ উপকূলের সবচেয়ে অস্বাভাবিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এই দুর্গটি।





