যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কুরিয়ার চালক মাসুম মিয়াকে (৪২) গুলিকরে হত্যার ঘটনায় নেই-কোয়ান ডেভিস-জোডো নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করেছে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ নিয়ে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে মোট পাঁচজন গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত হলো। গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন—এটি কোনো সংগঠিত অপরাধচক্রের মাধ্যমে পরিচালিত চুক্তিভিত্তিক কিলিং বা ভাড়াটে হত্যাকাণ্ড ছিল কি না।
গত ১৮ আগস্ট ভোরের দিকে পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যামের সেন্ট বারথোলোমিউস রোডে নিজের গাড়িতে থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন মাসুম মিয়া। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল পৌঁছে তাকে দাঁড়িয়ে থাকা টয়োটা প্রিয়াস গাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। দ্রুত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৮ অক্টোবর ডেভিস-জোডোকে রোমফোর্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১০ অক্টোবর ব্রোমলি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের স্পেশালিস্ট ক্রাইম কমান্ডের গোয়েন্দারা জানান, মাসুম মিয়ার গাড়ির একদম কাছ থেকে একাধিক গুলি চালানো হয়। এতে গাড়িটি ছিটকে গিয়ে পাশের একটি রেঞ্জ রোভারকে আঘাত করে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার চার অভিযুক্ত হলেন—১৮ বছর বয়সী লিওনেল ফ্রিম্যান ইন্টাসে, ৪০ বছর বয়সী সার্জিউ লেহু, ৪৭ বছর বয়সী রেনার্স লুডিন্স এবং ৩৬ বছর বয়সী মিহাই স্ট্যাঙ্কু। অভিযুক্তদের মধ্যে ব্রিটিশ, রোমানিয়ান ও লাটভিয়ান নাগরিক রয়েছেন। আগামী বছর মে মাসে সেন্ট্রাল ক্রিমিনাল কোর্টে (ওল্ড বেলি) তাদের বিচার কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে।
নিহত মাসুম মিয়ার বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কারিকোনা গ্রামে। তিনি তরুণ বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং একসময় এস্টেট এজেন্টের কাজ করলেও সম্প্রতি ডেলিভারি ড্রাইভার হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তিনি স্ত্রী ও আড়াই বছরের এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে নিউহ্যামের পাশাপাশি জন্মভূমি বিশ্বনাথে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রবাসীরা মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





