জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া, দলের ভেতরে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কমিটি পুনর্গঠন এবং নারী নেতৃত্বকে যথাযথ মূল্যায়ন না করার অভিযোগে শীর্ষ পদ থেকে একের পর এক নারী নেতার পদত্যাগের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও ১১ দলীয় জোট গঠনকে কেন্দ্র করে দলের ভেতরে মতপার্থক্যের সূত্রপাত ঘটেছিল।
শুরুতে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতায় দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেন ডা. তাসনিম জারা, যিনি পরবর্তীতে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর পরপরই জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে যুগ্ম আহ্বায়কের পদ ছাড়েন আরেক পরিচিত মুখ তাজনূভা জাবীন। সর্বশেষ, গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে দলটির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেন সামান্তা শারমিন।
পদত্যাগের কারণ হিসেবে সামান্তা শারমিন উল্লেখ করেন যে, এনসিপির নিজস্ব ও স্পষ্ট রাজনৈতিক ধারা বজায় না থাকায় দলটি ধীরে ধীরে জামায়াতের প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের সহায়ক বা প্রতিক্রিয়ামূলক ভূমিকা নিতে হচ্ছে। এছাড়া কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই গত ২৩ অক্টোবর অগণতান্ত্রিক উপায়ে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা এবং দলে নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সাংগঠনিক ক্ষমতার উপযুক্ত মূল্যায়ন না করার মতো বিষয়গুলোকেও তিনি সামনে এনেছেন।
অন্যদিকে, এসব পদত্যাগ ও সমালোচনার বিষয়ে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে যে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় কৌশলগত কারণেই জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন দাবি করেছেন যে, জোটের এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করাটাই মূলত নেতাদের দলত্যাগের মূল কারণ এবং রাজনৈতিক দলে সদস্য বা নেতাদের যাওয়া-আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তারা আরও জানান, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে থাকলেও এনসিপি নিজেদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচি বজায় রাখছে এবং আগামী ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।





