যুক্তরাজ্যে পনিরের চাকের ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে সাড়ে চার টন কোকেন পাচারের সাথে জড়িত এক শক্তিশালী অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত ও ধ্বংস করেছে পুলিশ। সাড়ে ৪৫ কোটি পাউন্ড মূল্যের এই বিশাল পরিমাণ ক্ষতিকর এ শ্রেণীভুক্ত মাদকের কারবারের পেছনে জড়িত থাকায় এ সপ্তাহে সাতজন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে লিডসের ক্রাউন কোর্ট। দীর্ঘ তদন্ত ও দুটি পৃথক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক চক্রের মোট ১৮ জন সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে আসে, চক্রটি ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিলের মধ্যে ডোভের বন্দর দিয়ে যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৬৮ কেজি পনির আমদানি করে। পরে সেসব পনির ডার্বি, হাডার্সফিল্ড, হ্যালিফ্যাক্স ও ব্ল্যাকবার্নের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হতো। পনিরের বড় বড় চাকার ভেতর পলিথিনে মোড়ানো কোকেনের ব্লকগুলো বের করে বাদামী কার্ডবোর্ডের বাক্স ও প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পুরো উত্তর ইংল্যান্ড জুড়ে খুচরা কারবারিদের কাছে সরবরাহ করা হতো।
তদন্তকারীদের মতে, পুলিশ ডার্বি ও অন্যান্য ইউনিটে অভিযান চালানোর পর অপরাধীরা কৌশল বদলে চকোলেট স্প্রেড এবং জমে থাকা মাছের কিমার ভেতরে মাদক লুকানো শুরু করেছিল। তবে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় দুই টন কোকেন উদ্ধার করা হয় এবং ২০২৩ সালের মে মাসে ব্ল্যাকবার্নের একটি ইউনিটে অভিযান চালিয়ে গুদা পনিরের চাকে লুকিয়ে রাখা ২১৭ কেজি কোকেনসহ চক্রের অন্যতম মূলহোতা সলিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সলিম চৌধুরীকে পূর্বেই সাড়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল।
চলতি সপ্তাহে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনের মধ্যে হ্যারি জনসনকে ১৬ বছর, ড্যারেন জনসনকে ১৫ বছর, এরান গোয়ানসকে প্রায় ৬ বছর এবং তিনজন কুরিয়ার ব্র্যান্ডন ইলিকে ১০ বছর, অ্যারন ম্যাকনালিকে ১০ বছর ৯ মাস ও অ্যান্টনি ইথারিজকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগে দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য পরিচালকদের মধ্যে এইডেন ম্যাককুলাকে ২৫ বছর ও ক্রেইগ আসকুইথকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। ডেকটেকটিভ ইন্সপেক্টর কেভিন ডালি জানিয়েছেন, এটি ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশের ইতিহাসে ধরা পড়া সবচেয়ে বড় অপরাধ চক্র, যা ধ্বংসের মাধ্যমে দেশে বিপুল পরিমাণ মাদকের ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।






