কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও জাপানের ‘বিগ-বি’ (Bay of Bengal Industrial Growth Initiative – BIG-B) অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় এই প্রকল্প নতুন মাত্রা পাওয়ার পর থেকেই মূলত বিষয়টি সামনে এসেছে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল যুক্ত হওয়ায় তা দেশের ভূ-রাজনীতি এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নানা মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিশেষ করে, এই বন্দর ও অর্থনৈতিক করিডোরের মাধ্যমে ভারতকে বিশেষ কোনো ট্রানজিট বা কানেক্টিভিটির সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রধান বিরোধী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এক জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান মাতারবাড়ি প্রকল্প নিয়ে কোনো লুকোচুরি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে কানেক্টিভিটির নামে দেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই প্রকল্পে দেশের স্বার্থ সর্বাগ্রে সংরক্ষিত হবে এবং মাতারবাড়ির সুযোগ-সুবিধা কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের জন্য নয়, বরং সবার জন্যই উন্মুক্ত রাখা হবে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, মাতারবাড়ি শুধু একটি সমুদ্রবন্দর নয়, বরং এটিকে ঘিরে অঞ্চলটিকে একটি বৈশ্বিক রপ্তানি হাব ও শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে, যেখানে জাপান প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে কানেক্টিভিটির আওতায় নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক ধারণাটি অতীতেও আলোচিত হয়েছে। সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে আঞ্চলিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সুফল পেতে হলে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও স্পষ্ট বোঝাপড়া থাকা জরুরি। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং চীনের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের সমীকরণে বাংলাদেশ যেন কোনো বড় শক্তির দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, সেই ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।





