যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড রেল নেটওয়ার্কে নারীদের যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপরাধবিজ্ঞান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনা কেবল আকস্মিক কিছু নয়; বরং অনেক অপরাধী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে গণপরিবহনে এসে সাধারণ যাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এসব অপরাধ ঘটিয়ে থাকে।
লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির যৌন সহিংসতাবিষয়ক শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফিওনা ভেরা-গ্রে জানিয়েছেন, অপরাধীদের চলাফেরা ও আচরণ সাধারণ ট্রেনের যাত্রীদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণ মানুষ যেখানে পরবর্তী ট্রেনের দিকে নজর দেন, সেখানে সুযোগসন্ধানী এসব অপরাধীরা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা নারী যাত্রীদের পর্যবেক্ষণ করে এবং একের পর এক স্টেশন পরিবর্তন করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী অল্পবয়সী নারী বা মেয়েরা ভয়ে কিংবা লজ্জায় অভিযোগ জানান না, আর অপরাধীরা এই সামাজিক নীরবতা ও ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দ্রুত কেটে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ (বিটিপি) এবং ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) যৌথভাবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নেটওয়ার্কজুড়ে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি সাদা পোশাকের ও ইউনিফর্ম পরা বিশেষ পুলিশ দল টহল দিচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ অনুরোধ জানিয়েছে, যেকোনো যৌন হয়রানির শিকার হলে বা ঘটনা চোখে পড়লে ৬১০১৬ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে গোপনে পুলিশকে জানাতে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ৯৯৯ নম্বরে কল দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





