যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এবার গণপরিবহন কেন্দ্র (ট্রানজিট হাব) এবং বিভিন্ন প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে সরাসরি ফেসিয়াল রিকগনিশন (Facial Recognition) প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে দেশের হোম অফিস। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া পলিসি ডকুমেন্ট ও ডাটা প্রটেকশন রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’।
ঘোষিত এই নতুন কৌশলের আওতায় কোনো ব্যক্তির ওপর কেবল ফৌজদারি অপরাধের জন্যই নয়, বরং কোনো অনুমতি ছাড়া ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যুক্তরাজ্যে থেকে যাওয়া কিংবা বৈধ ভিসা ছাড়া প্রবেশের মতো দেওয়ানি/প্রশাসনিক (Civil Offences) অপরাধে যুক্ত থাকলেও ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরার বিশেষ ‘ওয়াচলিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, বারবার বাসা-বাড়ি বা কর্মস্থলে ঝটিকা অভিযান না চালিয়ে ট্রানজিট কেন্দ্র কিংবা জনবহুল ইভেন্টে ক্যামেরার মাধ্যমে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে শনাক্ত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে অবৈধভাবে পুনঃপ্রবেশকারী ও স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট বিভাগের বাজেট দ্বিগুণ করার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার ও চালানের বড় পরিকল্পনা নিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও এআই নীতি গবেষকরা এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। ‘ওপেন রাইটস গ্রুপ’ এবং ‘জয়েন্ট কাউন্সিল ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অফ ইমিগ্র্যান্টস’-এর মতো অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলোর দাবি, এটি মূলত সাধারণ নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারির এক চরম বিতর্কিত ও বিপজ্জনক প্রসার, যা সংখ্যালঘু প্রবাসীদের ভুলভাবে অভিযুক্ত করে হয়রানির মুখে ফেলবে। এসব সমালোচনা ও উদ্বেগ সত্ত্বেও হোম অফিস নিশ্চিত করেছে যে, এই প্রকল্পটির প্রারম্ভিক ট্রায়াল সম্পন্ন করে ইতোমধ্যে তা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।





