যুক্তরাজ্যের অ্যাসাইলাম বা আশ্রয়প্রার্থী নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে মন্ত্রিসভার অন্য সহকর্মীদের কাছে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ না করায় তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ। সরকারের শীর্ষ মহলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থী নীতি সংস্কারের ফলে দেশে গৃহহীনতা বা বেওয়ারিশ মানুষের সংখ্যা কতটা বাড়তে পারে, সে বিষয়ে হোম সেক্রেটারি সুনির্দিষ্ট কোনো মূল্যায়ন জানাতে বারবার অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বড়দিনের মধ্যে ফুটপাতে বা খোলা আকাশের নিচে থাকা সব মানুষকে পুনর্বাসনের জন্য শত শত মিলিয়ন পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অথচ শাবানা মাহমুদের নতুন নীতির কারণে গৃহহীনতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। বিশেষ করে বর্তমান আবাসন সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াটা ফাহনবুল্লেহ এই নীতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, হোটেল থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের বের করে একাধিক পরিবারভিত্তিক বসতিতে (HMO) স্থানান্তরিত করলে তা সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ পুনরায় উসকে দিতে পারে।
শাবানা মাহমুদের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা অবশ্য দাবি করেছেন যে, নীতিমালার চূড়ান্ত রূপ এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাঁদের নতুন এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্য ও গৃহহীনতার ঝুঁকি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা। গত নভেম্বরে ঘোষণা করা এই সংস্কার প্রস্তাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (Permanent Leave to Remain) বাতিল এবং অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা করার সরকারি বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-এর প্রভাব কমাতে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, হোম অফিসের নিজস্ব মূল্যায়ন দস্তাবেজেও স্বীকার করা হয়েছে যে এর ফলে আর্থিক সংকট এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর গৃহহীনতা সংক্রান্ত সেবার চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে কেয়ার সেক্টরে সম্ভাব্য কর্মী সংকট এড়াতে এবং হোম সেক্রেটারির এই নীতির লাগাম টানতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এই নীতির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রীদের কাজ করার নির্দেশ দিলেও কেয়ার সেক্টরের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সে বিষয়েও তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।





