যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম স্বীকার করেছেন যে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তাঁর সরকারের প্রথম বাজেটটি প্রত্যাশিত মাত্রায় র্যাডিক্যাল বা আমূল পরিবর্তনকারী করা সম্ভব হয়নি। এই সপ্তাহে ঘোষিত বাজেটে তিনি জ্বালানি সহায়তা নিশ্চিতকরণসহ আরও বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইরানের যুদ্ধ এবং জাতীয় ঋণের উচ্চ সুদের মতো বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তাঁর সরকারকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে।
গত বুধবার যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) জন হিলি একটি বাজেট ঘোষণা করেন, যেখানে শীতকালে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে প্রায় ২ কোটি পরিবারের জন্য ১০০ পাউন্ড করে এককালীন অর্থ সহায়তার মতো কিছু তুলনামূলক কম খরচের পদক্ষেপ রাখা হয়েছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা, কল্যাণ ভাতা (Welfare) ছাঁটাই এবং প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগে সরকার বেশ পর্যুদস্ত হচ্ছে।
আইটিভিকে (ITV) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, “পরিস্থিতি যেভাবে হঠাৎ পরিবর্তনশীল রূপ নিয়েছে, তাতে একটি আদর্শ বাজেটের পরিকল্পনা বাস্তবে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।” তবে ব্যাংকিং খাতের কাছ থেকে প্রদেয় অর্থ ফেরত চাওয়া এবং ২০ মিলিয়ন পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়াকে সরকারের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি স্পষ্ট করেন যে, তরুণদের বেকারত্ব ভাতা নির্ভরতা কমানোর জন্য আগামীতে কল্যাণ ব্যবস্থা সংস্কারের নতুন পরিকল্পনা আনা হবে, তবে কোনো নিদারুণ বাজেট ছাঁটাই করা হবে না।
প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি ব্যাডেনক এই বাজেটের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “দেশের সাধারণ মানুষ বাজেট শুনে হয়তো ভাবছেন—ব্যাস, এই টুকুই?” জবাবে বার্নহাম জানান যে, কেবল ভূ-রাজনৈতিক সংকটই নয়, ২০২৪ সালের লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারও (যা আয়কর, জাতীয় বীমা বা ভ্যাট না বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছিল) তাঁর হাত বেঁধে রেখেছিল। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য অন্যান্য সরকারি বিভাগে বাজেট কাটছাঁটের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।





