যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের স্টকপোর্টে ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়ার জেরে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিরাপত্তার ভয়ে অভিভাবকেরা তাদের শিশুদের মসজিদে নিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন। সম্প্রতি ম্যানচেস্টার ইভনিং নিউজ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ভীতিজনক চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্টকপোর্টের এজলি এলাকার ‘এলাফ মসজিদ’ (Elaf Masjid) গত ১৮ মাসে অন্তত ৬ বার জঘন্য ইসলামোফোবিক আক্রমণের শিকার হয়েছে। হামলাকারীরা মসজিদের জানালা ভেঙেছে, ছাদে শুকরের মাংস ছুড়ে মেরেছে এবং পবিত্র কুরআন শরিফের ক্ষতিসাধন করেছে। এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসে রমজানের ঈদ উদযাপনের পরদিনই এই মসজিদে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। মসজিদের প্রতিনিধি আহমেদ হেলাল জানান, নিরাপত্তার অভাবে অনেক পিতা তাদের সন্তানদের নিয়ে মসজিদে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
শুধু মসজিদেই নয়, প্রাত্যহিক জীবনেও এই বিদ্বেষের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মুসলিম পরিবারগুলো। চলতি বছরের জানুয়ারিতে চোটল এলাকার প্রবাসি কামরান বুটের বাড়ির গেটে একটি কাটা শুকরের মাথা ঝুলিয়ে রেখে হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্টকপোর্টের একমাত্র মুসলিম নারী কাউন্সিলর হুমা খান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁর মাত্র সাত বছর বয়সী ভাইপোকেও বর্ণবাদী গালিগালাজের সম্মুখীন হতে হয়েছে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের (GMP) চিফ কনস্টেবল স্যার স্টিফেন ওয়াটসন এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গ্রেটার ম্যানচেস্টারে যেকোনো ধরনের ঘৃণাভিত্তিক অপরাধ বা ইসলামোফোবিয়ার কোনো স্থান নেই। কোনো পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের উপাসনালয়ে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে ভয় পাবেন—এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং নেওয়া বজায় রাখব।”
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বেভ ক্রেইগ এবং স্থানীয় এমপি নাভেন্দুর মিশ্র এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে বিশেষ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই হামলাগুলোর নেপথ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচার কাজ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও মুসলিম নেতৃবৃন্দ।






