লন্ডনের বিখ্যাত শপিং এলাকা অক্সফোর্ড স্ট্রিটের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ এখন সম্পূর্ণরূপে যানবাহনমুক্ত করা হয়েছে। কালো ট্যাক্সি, লাল দোতলা বাস আর যানবাহনের চিরচেনা কোলাহল থেকে মুক্ত হয়ে গত ২৬ অক্টোবর থেকে গ্রেট পোর্টল্যান্ড স্ট্রিট ও অর্চার্ড স্ট্রিটের মধ্যবর্তী অংশে বাস, ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত গাড়ি ও সাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পথচারীদের জন্য আরও উন্মুক্ত ও আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী এই বাণিজ্যিক এলাকার ব্যবসা চাঙা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের পরিকল্পনা অনুযায়ী গৃহীত এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে রাস্তাটির প্রায় এক কিলোমিটার অংশকে পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। অক্সফোর্ড স্ট্রিট উন্নয়ন করপোরেশন জানিয়েছে, এটি একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন ও দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে পরবর্তীতে এর স্থায়ী নকশা চূড়ান্ত করা হবে।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান কেনাকাটার কেন্দ্র এই অক্সফোর্ড স্ট্রিটে বছরে প্রায় ৩১০ কোটি পাউন্ডের খুচরা কেনাকাটা হয়। তবে অনলাইন শপিংয়ের প্রসার ও ক্রেতাদের ব্যয়সংকোচনের ফলে ঐতিহ্যবাহী এই এলাকার আকর্ষণ ধরে রাখা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। মেয়রের পরিকল্পনা হলো, গাড়ি চলাচল বন্ধ করে রাস্তাটিকে এমন একটি জনপরিসরে রূপ দেওয়া, যেখানে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে ও কেনাকাটা করতে পারেন। ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে এই এলাকায় ৫০টির বেশি গাছ, ১০০টির বেশি বসার আসন, দুটি উন্মুক্ত চত্বর ও বিশ্রাম নেওয়ার স্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই প্রকল্প নিয়ে কিছু আপত্তি ও উদ্বেগও রয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টার কাউন্সিলের মতো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, অক্সফোর্ড স্ট্রিট থেকে যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার ফলে আশপাশের সড়কগুলোতে অতিরিক্ত যানজট ও চাপ বাড়াতে পারে। নতুন ব্যবস্থার কারণে বাস রুট পরিবর্তন করা হয়েছে এবং উইগমোর স্ট্রিট ও হেনরিয়েটা প্লেসে নতুন বাসস্টপ করা হয়েছে। জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকলেও পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে রাত ১২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে নির্দিষ্ট নিয়মে প্রবেশ করতে হবে।
ইউরোপের অন্যান্য বড় শহরের মতো লন্ডনের এই উদ্যোগ পথচারীদের জন্য শহরের পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলবে বলে মনে করছেন সমর্থকরা। তবে এই পরিবর্তনের ফলে আশপাশের এলাকায় কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।






