পিপিই অর্থাৎ পার্সনাল প্রোটেক্টিভ ইকুউপমেন্ট – ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম। করোনা মহামারীর সময় রোগিদের চিকিৎসা প্রদানকালে হাসপাতালগুলোতে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পিপিই সরবরাহের জন্য সরকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক ঋণও দিয়েছিল। ভূয়া কোম্পানীর মাধ্যমে পিপিই সরবরাহের কথা বলে সরকারের কাছ থেকে নেওয়া লোনের অর্থ বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করার দায়ে স্বামী-স্ত্রীসহ তিন ব্যক্তিকে জেলদন্ড দেওয়া হয়েছে ইংল্যান্ডের একটি আদালত।
দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ৫৯ বছর বয়সী যোগেশ ভান্ডারী, তার স্ত্রী মিনাকশি (মিনা) ভান্ডারী এবং তাদের সহযোগি ক্রেইগ মরিস। এই তিন ব্যক্তি ব্রিটেন এবং আমেরিকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১২ মিলিয়ন গ্লাভস সরবরাহের কথা বলে তাদের ভূঁয়া কোম্পানীর মাধ্যমে ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ ঋণ নিয়েছেন। লুইজিয়ানায় মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফ্রাঙ্ক ল্যাব্রুজোর সহায়তায় তারা একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিল, তিনি তাদের অর্থ রাখার জন্য একটি ভুয়া অ্যাকাউন্টও তৈরি করে দিয়েছিলেন, যে অর্থ দিয়ে নাইট্রাল গ্লাভস কেনার কথা ছিল। কিন্তু লোনের অর্থ দিয়ে যোগেশ ৩ লাখ পাউন্ডে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ করেছেন। ১ লাখ ২৬ হাজার পাউন্ড দিয়ে কিনেছেন নতুন পরশে স্পোর্টস কার। এছাড়াও রোলেক্স ঘড়ি, দামী গহনা, আউওডি এ-৫, ল্যান্ড রোভার ডিসকাভারী, ভক্সওয়াগন গল্ফসহ অনেকগুলো দামী গাড়ি কিনেছেন। ঘর এবং রান্না ঘরে কাজ করানোর পাশাপাশি উচ্চবিলাশী হলিডে কাটিয়েছেন যোগেশ ও মিনা ভান্ডারী। অন্যদিকে তাদের সহকারী ক্রেইগ মরিসের পকেটে গেছে ২ লাখ পাউন্ড।
ওয়াটসঅ্যাপের ৪৭ হাজার ম্যাসেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই অর্থ নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারীতে তাদেরকে গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে ভূয়া তথ্য প্রদান এবং অর্থ পাচারের বেশ কয়েকটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার আদালতে তাদের সাজা প্রদান করা হয়।
যোগেশ ভান্ডারি স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে দুবার আদালতের কার্যক্রমে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন। শুক্রবার একটি গ্রেফতারি পরোয়ানার মাধ্যমে তাকে আদালতে হাজির করা হলে, তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তার স্ত্রী মিনাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিলেও দণ্ডটি দুই বছরের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ২৫০ ঘন্টার অবৈতনিক সমাজসেবামূলক কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের সহকর্মী মরিসকে তিন বছর নয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।





