ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের প্রথম কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জপদক অর্জন উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আহমেদাবাদের ক্রাউন প্লাজা হোটেলের সিটি সেন্টারে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্রোঞ্জ অর্জনকারী বাংলাদেশ দলকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। এশিয়ান ক্যাটারিং ফেডারেশনের চেয়ারম্যান এবং এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশী উদ্যোক্তা মো. ইয়াওয়ার খানের উদ্যোগে ও নেতৃত্বে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের কর্মকর্তা, পুরুষ ও নারী জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।





অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে মো. ইয়াওয়ার খান বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই সাফল্য কেবল একটি ক্রীড়া বিজয় নয়, বরং এটি দেশের জাতীয় গৌরব, শৃঙ্খলা ও শক্ত মানসিকতার পরিচয় বহন করে। তিনি কাবাডি ফেডারেশনের পরিচালনা পরিষদ, কোচিং স্টাফ ও দলীয় ব্যবস্থাপনার নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করে উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চ বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এই সংবর্ধনা আগামী দিনের উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড়দের নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিলেন ইংল্যান্ড কাবাডি দলের অধিনায়ক আনিসা খান। তিনি বাংলাদেশ দলের সাফল্যকে অভিনন্দন জানান এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট উদ্যোক্তা মো. ইয়াওয়ার খানের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ইংল্যান্ডে কাবাডি খেলার বিকাশ ও প্রসারের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাবাডির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতা থাকা দেশগুলোর সাথে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই খেলাকে আরও সুদৃঢ়ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তিনি দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে টিম ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ মো. জাহিদ ইকবাল আলোভ তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাঁরা জানান, এশিয়ান ক্যাটারিং ফেডারেশনের এই আন্তরিক আতিথেয়তা ও সম্মাননা পুরো দলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং অনুপ্রেরণাদায়ক। পুরুষ দলের পাশাপাশি নারী জাতীয় দলের ম্যানেজার ও কোচ সৈয়দা শাহনাজ পারভীনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে নারী কাবাডি দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলের কোচিং স্টাফ মো. আব্দুল জলিল ও মো. বাদশা মিয়াসহ সম্মানিত কর্মকর্তাদের অবদানকেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
উদযাপনীয় এ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে এক মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে, যেখানে আমন্ত্রিত অতিথি ও খেলোয়াড়েরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনের বিভিন্ন ইতিবাচক দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। প্রথম কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের এই অবিস্মরণীয় অর্জন দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।





