যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস বরোতে কমিউনিটি সেবা, যুব উন্নয়ন ও মানবিক কার্যক্রমে যাঁর নাম নিরবচ্ছিন্নভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি মুহি মিকদাদ। শৈশব থেকেই টাওয়ার হ্যামলেটসে বেড়ে ওঠা এই তরুণ সমাজকর্মী ব্যক্তি, তরুণ সমাজ এবং বৃহত্তর কমিউনিটির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
পেশাগতভাবে মুহি মিকদাদ একজন ক্যারিয়ারস অ্যাডভাইজার। বর্তমানে তিনি লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমিতে কর্মরত রয়েছেন, যেখানে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পেশা পরিকল্পনায় দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর লক্ষ্য শুধু চাকরির প্রস্তুতি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
কোভিড-১৯ মহামারির ভয়াবহ সময়ে যখন বহু পরিবার খাদ্য সংকটে পড়ে, তখন মানবিক তাগিদ থেকে মুহি মিকদাদ টাওয়ার হ্যামলেটসে একটি কমিউনিটি ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। জরুরি উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সুসংগঠিত সেবামূলক কর্মসূচিতে রূপ নেয়। আজও এই ফুড ব্যাংক নিয়মিতভাবে অসহায় পরিবার, প্রবীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করে যাচ্ছে। কোনো প্রচার বা আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নীরবে, ধারাবাহিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে পরিচালিত এই উদ্যোগ কমিউনিটির আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছে।
তরুণ ও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন মুহি মিকদাদ। তিনি লন্ডন স্পোর্টিফ নামক একটি মাল্টি-স্পোর্টস সংগঠনের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংগঠনটি শিশু, কিশোর, তরুণ, নারী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সারাবছর বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশেষ করে স্কুল ছুটির সময় শিশুদের সক্রিয়, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ইতিবাচক পরিবেশে রাখতে মাল্টি-স্পোর্টস ক্যাম্প আয়োজন করা হয়, যা অভিভাবক ও কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।
পরিবেশ রক্ষায়ও মুহি মিকদাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। নিজের এলাকা পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রাখার অঙ্গীকার থেকে গত চার বছর ধরে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসে সাপ্তাহিক লিটার পিকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এই উদ্যোগে তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্করা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে, যা পরিবেশ সচেতনতার পাশাপাশি সম্মিলিত দায়িত্ববোধ ও সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
মহামারির সময় মানবসেবায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয় তাঁর জীবনে। তিনি সেন্ট জন অ্যাম্বুলেন্স-এর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হয়ে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় বাসিন্দাদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদান কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেন। বিশেষ করে স্ট্রিট সার্জারিতে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় অবদান রাখে।
কমিউনিটির জন্য দীর্ঘদিনের নিরলস ও বহুমুখী অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মুহি মিকদাদ অর্জন করেছেন টাওয়ার হ্যামলেটস সিভিক অ্যাওয়ার্ড। পাশাপাশি তিনি সিটি অব লন্ডনের ফ্রিম্যান সম্মাননায় ভূষিত হন—যা সমাজসেবায় অসাধারণ অবদানের একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি। এছাড়া তিনি তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড-এর একজন অ্যাম্বাসাডর হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন, যা তাঁর নেতৃত্ব ও প্রভাবের আরেকটি স্বীকৃতি।
মুহি মিকদাদের এই দীর্ঘ যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি সেবা, নেতৃত্ব ও কমিউনিটি উন্নয়নের প্রতি এক গভীর অঙ্গীকারের প্রতিচ্ছবি। টাওয়ার হ্যামলেটসসহ বৃহত্তর সমাজে তাঁর কাজ আজও একটি স্থায়ী, ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক প্রভাব রেখে চলেছে।