যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের সোয়ানসি এলাকার মরিস্টন হাসপাতালে ভিক্টোরিয়ান যুগের রোগ হিসেবে পরিচিত অত্যন্ত ছোঁয়াচে চর্মরোগ স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় দর্শনার্থীদের চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি ওই অঞ্চলের বেশ কিছু হাসপাতালে ত্বকের পরজীবীজনিত এই সংক্রমণের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর রোগীদের সুরক্ষায় সতর্কতা জারি করেছে সোয়ানসি বে ইউনিভার্সিটি হেলথ বোর্ড।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মরিস্টন হাসপাতালে অল্পসংখ্যক রোগীর শরীরে এই জীবাণু শনাক্ত হয়েছে এবং আক্রান্ত রোগী, কর্মী ও স্বজনদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণ যেন ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কিছু কিছু ওয়ার্ডে দর্শনার্থী প্রবেশে সাময়িক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং খোসপাঁচড়ার লক্ষণ দেখা দিলে সাধারণ মানুষকে স্থানীয় ফার্মেসি বা জিপির পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া হলো আট পা-বিশিষ্ট এক ধরনের অণুবীক্ষণিক পরজীবী জীবাণুর আক্রমণের মাধ্যমে সৃষ্ট ত্বকীয় সংক্রমণ। এই জীবাণু ত্বকের নিচে গর্ত খুঁড়ে ডিম পাড়ে, যার ফলে ত্বকে প্রচণ্ড চুলকানি এবং লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। সাধারণত কনুই, হাঁটু, হাত, পা, বগল ও কোমরের চারপাশে এই র্যাশ বেশি দেখা যায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে এটি খুব দ্রুত অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
এই রোগ প্রতিরোধ ও সুরক্ষায় বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। চিকিৎসার প্রথম দিনেই ঘরের সব বিছানার চাদর ও পোশাক ষাট ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। যে কাপড়গুলো ধোয়া সম্ভব নয়, সেগুলো একটি সিলগালা ব্যাগে অন্তত তিন দিন বা বাহাত্তর ঘণ্টা বন্দি করে রাখতে হবে, যাতে জীবাণু মারা যায়। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুরো শরীরে বিশেষ ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে হবে এবং সাত দিন পর তা পুনরায় প্রয়োগ করতে হবে। পরিবারের এক সদস্য আক্রান্ত হলে উপসর্গ না থাকলেও ঘরের সবাইকে একসাথে চিকিৎসা নিতে হবে।
ওয়েলসের গ্লানগউইলি হাসপাতাল এবং প্রিন্স ফিলিপ হাসপাতালে একই চর্মরোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে একাধিক ওয়ার্ড সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণার পর এবার সোয়ানসিতেও এই বিধিনিষেধ জারি করা হলো। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং পরিবারের সবাইকে একসাথে চিকিৎসার আওতায় আনার পরামর্শ দিচ্ছেন।





