যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের সংশোধন এনেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। এর আগে বৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের বা ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন’ (ILR) পাওয়ার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে সরে এসেছেন তিনি। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, যেসব প্রবাসী কেয়ার কর্মী এর আগে যুক্তরাজ্যে এসেছেন এবং বার্ষিক কমপক্ষে ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করছেন, তারা আগের মতো মাত্র ৫ বছর পরই স্থায়ীভাবে বসবাসের সুবিধার আওতায় আসবেন।
পার্লামেন্টে নতুন এই নীতিমালা ঘোষণা করার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে বর্তমান এই সিদ্ধান্তটি মূলত ন্যায়পরায়ণতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সংশোধিত সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার অভিবাসী দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা ও বিলম্বিত স্থায়ী বসবাসের হাত থেকে রক্ষা পেলেন। তবে যেসব কর্মী এই বিশেষ ছাড়ের আওতায় পড়বেন না, তাদের ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া যেসব অভিবাসী ইতিপূর্বে বেনিফিট বা সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন কিংবা অভিবাসন আইন ভঙ্গ করেছেন, তাদের স্থায়ী residency পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তত ২০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এদিকে ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই ধরনের অভিবাসীদের কাজের বা পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার জন্য ২০ বছর এবং যারা কোনো কাজ বা পড়াশোনায় যুক্ত হবেন না, তাদের ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, উচ্চ আয়ের অভিবাসী যারা বার্ষিক ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করেন অথবা গ্লোবাল ট্যালেন্টের মতো উচ্চ দক্ষ ক্যাটাগরির ভিসায় রয়েছেন, তারা মাত্র ৩ বছর পরই স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
সরকারের এই নীতি পরিবর্তনের পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি একে একটি বড় ধরনের অবস্থান পরিবর্তন বা ‘ইউ-টার্ন’ হিসেবে অভিহিত করে এর সমালোচনা করেছে এবং এর ফলে ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তবে কেয়ার সেক্টরের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও কেয়ার হোম পরিচালনাকারীরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই পদক্ষেপে কেয়ার সেক্টরে কর্মী সংকট কিছুটা কমবে এবং সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে।





