বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে যেখানে নির্বাচনের আগে অনুদান সংগ্রহই মুখ্য হয়ে ওঠে, সেখানে সংগৃহীত অর্থ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চিকিৎসক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ডা. তাসনিম জারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি এই ঘোষণা দেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডা. তাসনিম জারা জানান, এর আগে তাকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনে করে দেশ-বিদেশের অনেকেই অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এ অবস্থায় দাতা ও সমর্থকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি অনুদান ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমার পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের কারণে যারা ডোনেট করা অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা। যারা বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠিয়েছেন, তারা নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করলে ট্রানজ্যাকশন আইডি যাচাইয়ের মাধ্যমে টাকা ফেরত পাবেন।”
তিনি আরও জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়াও শিগগিরই জানানো হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী তহবিলের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার এমন উদ্যোগ দেশের রাজনীতিতে বিরল। সাধারণত প্রার্থীরা একবার অনুদান সংগ্রহ করলে তা ফেরত দেওয়ার নজির খুব কমই দেখা যায়। তাসনিম জারার এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের কাছে তার সততা ও নৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে আইনি শর্ত পূরণের জন্য আগামীকাল থেকেই ৪ হাজার ৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছেন ডা. তাসনিম জারা। নিজস্ব বড় কোনো কর্মীবাহিনী না থাকলেও এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও সমর্থনের ওপর ভর করেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চান তিনি।