বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরও গভীর আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ অতিদরিদ্র অবস্থায় জীবনযাপন করছেন, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন (জেআরএফ) প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ব্রিটেনে ‘অতিদরিদ্র’ বলতে বোঝানো হয় এমন পরিবারকে, যাদের বাড়িভাড়া পরিশোধের পর হাতে থাকা আয় জাতীয় গড় আয়ের তুলনায় অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ, দুই সন্তানসহ কোনো পরিবারের বার্ষিক আয় যদি ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ডের কম হয়, তবে সেটিকে অতিদরিদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ হিসেবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অধিকাংশ বাংলাদেশি পরিবারের আয় দেশটির গড় আয়ের নিচে অবস্থান করছে।
দারিদ্র্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণে জেআরএফ জানায়, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমেছে। ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ শতাংশ, সেখানে ২০২৩-২৪ সালে তা নেমে এসেছে ২১ শতাংশে। তবে একই সময়ে অতিদরিদ্রতার হার ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে পৌঁছেছে।
এদিকে শিশুদের মধ্যে দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হচ্ছে এবং টানা তিন বছর ধরে দরিদ্র শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২০১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার নিম্ন আয়ের পরিবারে দুই সন্তানের বেশি হলে সামাজিক সুরক্ষা সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে চলতি বছরের এপ্রিলে অর্থমন্ত্রী রাখায়েল রিভিস সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বলেছে, শুধু এই সিদ্ধান্তই শিশু দারিদ্র্য কমাতে যথেষ্ট নয়।
সংস্থাটির মতে, দারিদ্র্যের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হলো শিশুরা, এরপর রয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। পাশাপাশি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিদের দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
জেআরএফ সতর্ক করে বলেছে, শিশু দারিদ্র্য নিরসনে সরকার যদি আরও কার্যকর ও কৌশলগত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।