দয়াময় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য গুনাহ মাফের অসংখ্য পথ খুলে দিয়েছেন। পাপের অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষকে সঠিক পথে ফেরানোর জন্য তিনি সময়বিশেষে বিশেষ কিছু সুযোগ দান করেন। যে সকল বান্দা এসব সুযোগ গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন, মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং পাপকে পুণ্যে রূপান্তরিত করে অন্তরকে আলোকিত করেন। এমনই একটি মহিমান্বিত সুযোগ হলো শবে বরাত।
হাদিসে বর্ণিত আছে, শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করে দেন।
বর্তমানে শবে বরাত নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে দুই ধরনের চরমপন্থা দেখা যায়। এক শ্রেণি এ রাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রসম-রেওয়াজ ও বিদআতি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, যা শরিয়তসম্মত নয়। অন্য শ্রেণি আবার শবে বরাতের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করে, সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলোকে জঈফ বা জাল আখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এই দুই অবস্থানের বাইরে থেকে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাই ইসলামের শিক্ষা।
শবে বরাতের ফজিলত
হাদিস শরিফে এসেছে, শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া সকলকে ক্ষমা করেন (সহিহ ইবনে হিব্বান)। এছাড়া অর্ধ-শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে কালব গোত্রের বকরির পশমের সংখ্যার চেয়েও অধিক মানুষকে ক্ষমা করেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে (সুনানে তিরমিজি)।
শবে বরাতে করণীয়
এই রাতে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ ইবাদত নেই। তবে বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া ও কান্নাকাটি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উত্তম। পাশাপাশি ১৫ শাবান রোজা রাখা মুস্তাহাব।
শবে বরাতে বর্জনীয়
শবে বরাত নিজে বিদআত না হলেও এ উপলক্ষে কিছু ভিত্তিহীন ও বিদআতি কাজ সমাজে প্রচলিত আছে, যা পরিহার করা জরুরি। যেমন—শিরনি, হালুয়া বা মিষ্টি বিতরণ, মসজিদ ও ঘরবাড়িতে আলোকসজ্জা, পটকা বা আতশবাজি ফোটানো, কবর বা মাজারে ফুল ও আলো দেওয়া, দলবদ্ধভাবে কবরস্থানে যাওয়া ইত্যাদি।
বিদআতের ভয়াবহ পরিণতি
হাদিস শরিফে বিদআতের পরিণতি সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। বিদআতি ব্যক্তি নামাজ, রোজা, দান-সদকা, হজ-উমরাসহ কোনো ইবাদতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত বিদআত পরিহার করে সুন্নাহভিত্তিক আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া।
লেখক:
মুফতি জুবায়ের বিন আবদুল কুদ্দুছ
সিনিয়র শিক্ষক, লালবাগ মাদ্রাসা, ঢাকা
খতিব, আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ
পরিচালক, দাওয়াতুস সুন্নাহ বাংলাদেশ