ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ‘না’ মানেই ভারতের দালালি করা এবং দিল্লির দালালদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। একই সঙ্গে এটি বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে পুনরায় হত্যার পরিকল্পনার অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওই দলের নাম উল্লেখ না করে সাদিক কায়েম বলেন, “আপনারা কি আরেক হাসিনা হতে চান? তাহলে স্পষ্ট করে বলুন। হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি, যেভাবে লাথি দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আপনাদের সঙ্গেও ডিল করা হবে।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের উদ্যোগে আয়োজিত গণজমায়েতে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ, সিলেট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীসহ ছাত্রশিবিরের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে হলো জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, কৃষক, শ্রমিক ও রিকশাচালকের অর্থে পরিচালিত এই দেশে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গড়ে তোলার পথ তৈরি করাই ‘হ্যাঁ’-এর মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে হলো বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম, খুন ও আয়নাঘরের সংস্কৃতির জন্য দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ ইতোমধ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে প্রথম যে সিল পড়বে, তা হবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ও ‘না’-এর পক্ষে অবস্থানকারীদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না। এ সময় তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দলটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে এসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের ভুল সংশোধন করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে হবে এবং দ্রুত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা শুরু করতে হবে। অন্যথায় ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই জনগণ তাদের বিরুদ্ধে গণরায় দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
শেষে সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালাতে হবে।
সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে যেন কোনো চাঁদাবাজ বা জালিমের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা না যায়, সে জন্য ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ছাত্র নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর ও গণতান্ত্রিক মাধ্যম। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়া মানে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বিজয়ী করা নয়; বরং আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণ করা। শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা এবং চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়তে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।