ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র ঝড়ো বিজয়ের পর মন্ত্রিপরিষদ গঠন নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সিলেট বিভাগ থেকে মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন-এ নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের আগ্রহও শেষ নেই।
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে সিলেট-১ আসনের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান, হবিগঞ্জ-১ আসনের ড. রেজা কিবরিয়া এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের জি.কে. গৌছের নাম মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া, দলের প্রতি ‘সেক্রিফাইস’-এর কারণে টেকনোক্রেট কোটায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক) হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, এবং সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সিলেট জেলার ছয়টি আসনের সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
সিলেট-১ আসনে নির্বাচিত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পিতা ১৯৯১ সালে সিলেট বিভাগের একমাত্র বিএনপি এমপি ছিলেন। সিলেট-১ আসনে বিজয়ী ব্যক্তি প্রায়ই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তাই এবারও তাঁর মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুই বারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার ভোটে বিজয়ী হওয়ায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। দলের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপে তিনি নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। তাই টেকনোক্রেট কোটায় তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তিনি প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা পদে নথিভুক্ত হতে পারেন।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। যদিও এ আসনে মনোনয়ন পাননি, পরে তিনি সিলেট জেলার কো-অর্ডিনেটর হন এবং দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। নেতা-কর্মীরা আশা করছেন, দলের প্রতি এই অবদানকে মূল্যায়ন করে তাঁকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে।
হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ. এম. এস. কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াও মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রাখেন। তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি চার বার এমপি হয়েছেন এবং দলের হাইকমান্ডের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে।
দলের একজন সিনিয়র নেতা প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দলের চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতার এখতিয়ারে। ব্যক্তিগত ইচ্ছার কোনো প্রভাব থাকবে না।