মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন–এ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান বিদেশে সক্রিয় থাকা ‘স্লিপার সেল’ বা গোপন নেটওয়ার্কগুলো সক্রিয় করার চেষ্টা করতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ABC News–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা একটি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ সংকেত আটক করেছে, যা ইরানের বাইরে থাকা তথাকথিত ‘স্লিপার অ্যাসেট’দের জন্য সম্ভাব্য নির্দেশনা হতে পারে। এই সতর্কবার্তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কাছে ফেডারেল পর্যায় থেকে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার পরপরই “ইরানি বংশোদ্ভূত” একটি সংকেত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সংকেতটি এমনভাবে এনকোড করা ছিল যাতে কেবল নির্দিষ্ট প্রাপকেরাই তা ডিকোড করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের গোপন অপারেটিভরা অনেক সময় ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই নির্দেশনা গ্রহণ করতে পারে, যা তাদের শনাক্ত করা আরও কঠিন করে তোলে।
এদিকে যুক্তরাজ্যে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশটির বিশেষ বাহিনী Special Air Service–এর একটি দলকে লন্ডনে মোতায়েন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও UK Ministry of Defence এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক Andreas Krieg, যিনি King’s College লন্ডন–এর নিরাপত্তা অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক, বলেন—সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেহরান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রভাব দেখাতে চাইতে পারে। এতে বিদেশে থাকা গোপন নেটওয়ার্কগুলো ব্যবহার করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আগে এসব সেল মূলত ইরানি ভিন্নমতাবলম্বীদের নজরদারি বা হয়রানিতে ব্যবহৃত হতো। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এগুলো প্রতিশোধমূলক হামলা, নজরদারি কিংবা অপরাধী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অপারেশন পরিচালনায় ব্যবহার করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে রাষ্ট্র-সমর্থিত হামলা বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সাইবার আক্রমণও ঘটতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা জ্বালানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যে ইরানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে Metropolitan Police। সন্দেহভাজনদের মধ্যে একজন ইরানি নাগরিক এবং তিনজন দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক রয়েছেন। তাদের UK জাতীয় Security Act–এর আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৩ মার্চ পর্যন্ত হেফাজতে রাখা হয়েছে।
২২, ৪০, ৫২ ও ৫৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিদের Harrow, Watford এবং Barnet এলাকার বিভিন্ন ঠিকানা থেকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় অপরাধীকে সহায়তার সন্দেহে আরও কয়েকজনকে আটক করে পরে তদন্তের স্বার্থে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে ২০১৭ সালের মতো বড় ধরনের হামলার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ওই বছর Manchester Arena bombing–সহ কয়েকটি ঘটনায় ৪০ জন নিহত এবং ৯০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।