ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাহিনীর প্রধান ফার্স্ট সি লর্ড জেনারেল স্যার গুইন জেনকিন্স। তিনি স্বীকার করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে কার্যকরভাবে অংশ নেওয়ার মতো প্রস্তুতি নৌবাহিনীর নেই।
জেনকিন্সের মতে, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনে এখনো অনেক কাজ বাকি। তাঁর এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন কিয়ার স্টারমার সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা বাড়ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যক্রম মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা না করায় ট্রাম্প ব্রিটেনকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ এই প্রণালির জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় নিজেকেই এগিয়ে আসতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা কমিয়ে দেবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ব্রিটিশ নৌবাহিনীকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন। এর আগে ট্রাম্প ব্রিটিশ বিমানবাহী রণতরিগুলোকে তুচ্ছ করে ‘খেলনা’ বলেও আখ্যা দেন।
বাস্তব পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা শুরুর সময় ব্রিটেনের ছয়টি ডেস্ট্রয়ারের মধ্যে চারটিই মেরামতের কারণে অচল ছিল। সাইপ্রাসে একটি বিমানঘাঁটি রক্ষায় ব্যর্থতা এবং ন্যাটোর দায়িত্ব পালনে জার্মানির কাছ থেকে যুদ্ধজাহাজ ধার নেওয়ার ঘটনাও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়েও সরকারের ভেতরে মতবিরোধ রয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষায় বরাদ্দের পক্ষে থাকলেও অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস এতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশপথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় স্পেনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়েছে। তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে, এবং জ্বালানি সংকটের কারণে চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এত উত্তেজনার মাঝেও ব্রিটিশ রাজা ও রানির যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও সমালোচকেরা তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। কূটনৈতিক মহলে আশা করা হচ্ছে, এই সফর দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ জানাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শিগগিরই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যেই স্পষ্ট, বাস্তব প্রস্তুতিতে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে।