দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডন–এর ক্ল্যাপহ্যাম এলাকায় টানা দুই দিনের বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘রাস্তায় ভিড় জমানো’ প্রবণতার জেরেই শত শত তরুণ-তরুণী জড়ো হয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
শনিবার ও মঙ্গলবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয় কিশোরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। Metropolitan Police জানিয়েছে, সিসিটিভি ও বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং সামনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ল্যাপহ্যাম হাই স্ট্রিটে ভিড় করে তরুণরা দোকান ও রেস্তোরাঁয় হামলা চালাচ্ছে। কাছাকাছি ক্ল্যাপহ্যাম কমন এলাকায় আতশবাজিও ফোটানো হয়। এই বিশৃঙ্খলায় চারজন পুলিশ সদস্য এবং একজন সাধারণ নাগরিক আহত হন।
পুলিশের ধারণা, TikTok ও Snapchat–এর মতো প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগের মাধ্যমে এসব জমায়েত সংগঠিত হয়। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকেও তাদের প্ল্যাটফর্মে উসকানিমূলক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
লন্ডনের মেয়র Sadiq Khan এই ঘটনাকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার কথা বলেছেন। অন্যদিকে কনজারভেটিভ নেতা Kemi Badenoch মন্তব্য করেছেন, শাস্তির ভয় কমে যাওয়ায় অনেক তরুণ মনে করছে তারা যা খুশি করতে পারে—এটাই মূল সমস্যা।
পুলিশ কর্মকর্তা Emma Bond জানিয়েছেন, এলাকায় শক্তিশালী পুলিশি উপস্থিতি বজায় রাখা হবে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলা বা পরিকল্পিত জমায়েত কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি তরুণদের সতর্ক করে বলেন, এমন কর্মকাণ্ডে জড়ালে গ্রেপ্তার ও ফৌজদারি রেকর্ড হতে পারে, যা ভবিষ্যতের চাকরি ও ভ্রমণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে এবং কার সঙ্গে মিশছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। তাদের এমন সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবারকেই প্রথম ভূমিকা নিতে হবে।