সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলার ছবি শেয়ার করার অভিযোগে এক ব্রিটিশ ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য ও ছবি প্রচারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। এই পদক্ষেপ শহরটির উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ বছর বয়সী ওই বিমানকর্মী দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি ড্রোন হামলার ক্ষয়ক্ষতির ছবি হোয়াটসঅ্যাপের একটি ব্যক্তিগত গ্রুপে শেয়ার করেন। একই সঙ্গে তিনি সহকর্মীদের কাছে জানতে চান, বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করা নিরাপদ কি না।
এরপর কর্তৃপক্ষ তার মোবাইল ফোন তল্লাশি চালিয়ে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা করে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড এবং প্রায় ৫০ হাজার ডলার জরিমানার আশঙ্কা রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ‘ডিটেইনড ইন দুবাই’-এর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ছবি বা ভিডিও ধারণ ও শেয়ার করার অভিযোগে প্রায় ৭০ জন ব্রিটিশ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পর্যটক, প্রবাসী ও বিমান সংস্থার কর্মীরাও রয়েছেন। অভিযোগ, তারা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কনটেন্ট প্রচার করেছেন।
এদিকে পৃথক এক ঘটনায় ৬০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ পর্যটককেও ড্রোন হামলার দৃশ্য ধারণের জন্য আটক করা হয়েছে, যদিও তিনি পুলিশের অনুরোধে ভিডিওটি তাৎক্ষণিকভাবে মুছে ফেলেছিলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে বলেছেন, সংকটের সময়ে এ ধরনের ছবি বা তথ্য শেয়ার করলে তাৎক্ষণিকভাবে ফৌজদারি জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এই কঠোরতা প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে, যা দুবাইয়ের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক আকর্ষণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রাধা স্টির্লিং বলেন, অনলাইনে যুদ্ধসংক্রান্ত অসংখ্য ছবি ও ভিডিও থাকায় অনেকেই সেগুলো শেয়ার করাকে নিরাপদ মনে করেন। কিন্তু আমিরাতের ক্ষেত্রে এই ধারণা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।