সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন ফাহিমা আহাদ কুমকুম। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাকে একজন যোগ্য, সাহসী ও প্রজ্ঞাবান নারী নেতৃত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ফাহিমা আহাদ কুমকুম রাজপথের একজন পরীক্ষিত ও আপসহীন নেতা হিসেবে পরিচিত। সময় যত এগোচ্ছে, ততই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে তার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে।
বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট জেলা বিএনপির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে তার সক্রিয় উপস্থিতির কারণে অনেকেই তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ক্ষেত্রেও রয়েছে তার সক্রিয় ভূমিকা। ফাহিমা আহাদ কুমকুম সিলেট সোসিও ইকনোমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে অসহায় নারী ও শিশুদের কল্যাণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে একজন সমাজসেবী হিসেবেও তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
দলের কঠিন সময়েও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেফতারের প্রতিবাদে মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। পরে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে এক কঠিন ব্যক্তিগত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়—চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই ছয় মাসে প্রিম্যাচিউর কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
এছাড়াও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও তাকে সরব ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। সিলেটের চৌহাট্টা পয়েন্টে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আন্দোলনে অংশ নিয়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান তিনি। ৩ জুলাই ২৪ ফাহিমা আহাদ কুমকুম পুলিশের গুলিতে আহত হন। আহত অবস্থায়ও কুমকুম আন্দোলন ছেড়ে যাননি। আহত থেকেও স্লোগান দিয়ে সিলেটের রাজপথ উত্তাল রেখেছিলেন এই সাহসী নারী নেত্রী।
কুমকুম বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য আমি আমার জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছি। আমার জীবন আর দলের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। দলের দুর্দিনে নিজের শরীরের রক্ত ঝরিয়েছি রাজপথে। আমার রাজনৈতিক জীবনের সাক্ষী সিলেটের রাজপথ সিলেটের আপামর জনতা।
সংরক্ষিত মহিলা আসন নিয়ে তিনি বলেন দলের সিদ্ধান্ত মানে কাজ করছি এখনো আমি দলের দিকে তাকিয়ে আছি। দল আমাকে যে সিদ্ধান্ত দিবে আমি তা মাতা পেতে নিবো। দলের জন্য আমি রক্ত ঝরিয়েছি এখন দলে প্রতি দানের পালা।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ, সংগ্রাম এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে ফাহিমা আহাদ কুমকুমকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য একজন গ্রহণযোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন সিলেটের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।