লন্ডন থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, যুক্তরাজ্যে আবাসন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। একসময় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজস্ব বাসায় ওঠা ছিল স্বাভাবিক ধারা, কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তা অনেকের কাছেই অধরা হয়ে পড়েছে।
Office for জাতীয় Statistics-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ২০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী প্রায় ২৩ লাখ পুরুষ এখনো বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন, যা আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বয়সসীমার প্রায় ৩৫ শতাংশ পুরুষ স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারছেন না। নারীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ, অর্থাৎ প্রায় ২২ শতাংশ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যবধান আরও বাড়ছে—৩৪ বছর বয়সে একজন পুরুষের বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার সম্ভাবনা একজন নারীর তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, এই বয়সের প্রায় ২৯ শতাংশ তরুণ এখনও পারিবারিক ছায়াতেই রয়েছেন। তবে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি তরুণদের মধ্যে এই হার আরও বেশি—প্রায় অর্ধেকেরও বেশি তরুণ ২০-এর শেষ ভাগ পর্যন্ত পরিবারেই থাকছেন। এর পেছনে সাংস্কৃতিক বন্ধন, নগর জীবনের উচ্চ ব্যয় এবং বাড়তি ভাড়ার চাপ বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের বেশি সময় পরিবারে থাকার একটি কারণ হলো শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে পার্থক্য। নারীরা তুলনামূলকভাবে দ্রুত উচ্চশিক্ষা ও চাকরিতে যুক্ত হচ্ছেন, যেখানে অনেক পুরুষ এখনো শিক্ষা বা কর্মে যুক্ত নন। বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি তরুণ এই অবস্থায় রয়েছেন, যা তাদের আর্থিকভাবে নির্ভরশীল করে রাখছে।
অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, লন্ডন-এর মতো শহরে বাড়িভাড়া তরুণদের আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত গ্রাস করছে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে বাসা ভাড়া নেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গবেষকদের মতে, পরিবারে দীর্ঘদিন বসবাসের কারণে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা বা পরিবার শুরু করার ক্ষেত্রে মানসিক বাধা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যতে জন্মহারে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, সম্পদের অসম বণ্টন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মোট সম্পদের বড় অংশই ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে মানুষের হাতে, আর তরুণরা উচ্চ ভাড়ার চাপে পড়ে মাসে গড়ে প্রায় ১,৩৭৪ পাউন্ড ব্যয় করেও স্বতন্ত্র বাসস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, আবাসন খাতে সংস্কার এবং সাশ্রয়ী বাসস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি না হলে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।