নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠেছে সিলেটের শিক্ষার্থীরা। সকাল থেকেই স্কুলমুখী হয়ে রঙিন মলাটের পাঠ্যবই বুকে জড়িয়ে ধরতে দেখা যায় তাদের। কেউ বইয়ের পাতা উল্টে দেখছে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে নতুন বছরের আনন্দ।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সিলেটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় জমে। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে নতুন শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা হাতে হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেন।
সিলেট বিভাগের চার জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১৬ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এ বছর ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৩টি বই বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ২ লাখ ২৫ হাজার, প্রথম শ্রেণিতে ২ লাখ ৯৯ হাজার, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৯০ হাজার, তৃতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৭০ হাজার, চতুর্থ শ্রেণিতে ২ লাখ ৮০ হাজার এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ২ লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক আবু সায়ীদ মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এ বছর আনুষ্ঠানিক বই উৎসব আয়োজন করা হয়নি। পরিবর্তে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, সিলেট বিভাগের প্রাথমিক স্তরের সাড়ে ১৬ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য নির্ধারিত ৫৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৩টি বই শতভাগই ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ভার্সনের ৫৮ লাখ ১২ হাজার ২৪৪টি এবং ইংরেজি ভার্সনের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য ৭২ হাজার ৭৭৯টি বই রয়েছে।
অন্যদিকে, সিলেট বিভাগের মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল পর্যায়ের ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য মোট ১ কোটি ৩২ লাখ ২৬ হাজার ৮১৯টি বইয়ের চাহিদা থাকলেও এখন পর্যন্ত পৌঁছেছে ৯৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৬টি বই। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার ১০৯টি, মাদ্রাসার জন্য ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৭১৯টি এবং ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮টি বই সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে এ স্তরে প্রায় ৬৯ শতাংশ বই বিতরণ সম্ভব হয়েছে এবং বাকি ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো বই পায়নি।
উপশহরের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাবির হক জানায়, নতুন বই পেয়ে তার খুব আনন্দ লাগছে এবং বাসায় গিয়ে সব বই দেখার আগ্রহ রয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ জানান, চলতি বছর কোনো কেন্দ্রীয় বই উৎসব নেই। ১ জানুয়ারি থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নিজ নিজ স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যবই বিতরণ করবেন—এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।