হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভেতর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা পরিচয় দিয়ে আগের বিভিন্ন সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসনে পরিবর্তন এসেছে দাবি করে তিনি ওসির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন এবং অতীতের সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করেন। এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী এনামুল হাসান নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। পরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র থানায় গিয়ে আটক ব্যক্তিকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পুলিশ রাজি না হওয়ায় ওসি আবুল কালামের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে চাপের মুখে পুলিশ আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, রাগের মাথায় কথা বলতে গিয়ে তার বক্তব্যে ভুল হয়েছে। তিনি বিষয়টি পরে অনুধাবন করেছেন বলেও দাবি করেন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানান, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নয়ন নামের ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা তার পক্ষে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করেন। সেই সময় থানার ভেতর কথাকাটাকাটি হয় এবং ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আটক ব্যক্তি ছাত্রলীগের নেতা কি না—এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, তিনি আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে, তবে বর্তমানে সক্রিয় নেই।






