যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন পূরণে অনেকেই বিয়েকে সহজ ও নিশ্চিত পথ বলে মনে করতেন। নাগরিক কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া যাবে—এমন ধারণা দীর্ঘদিন প্রচলিত ছিল। তবে বাস্তবতা এখন আর আগের মতো নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি বাড়ায় বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে। এমনকি আইনি বিয়ে থাকা সত্ত্বেও স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে বসবাস না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের হঠাৎ পরিদর্শনে দেখা গেলে দম্পতি একই ঠিকানায় না থাকলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছেন আবেদনকারীরা।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) দাম্পত্য জীবনের বাস্তবতা যাচাইকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে। ৩০ বছরের অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবী ব্র্যাড বার্নস্টাইন জানান, পড়াশোনা বা চাকরির কারণে আলাদা থাকার যুক্তিও এখন অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য—দম্পতিরা প্রকৃত অর্থে একসঙ্গে সংসার করছেন কি না।
এছাড়া গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ কমিয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ১৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড আবেদন নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বহুল আলোচিত ডিভি লটারি কার্যক্রম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শুধু বিয়ের কাগজ নয়—সম্পর্কের সত্যতা ও গভীরতা প্রমাণ করাই গ্রিন কার্ড পাওয়ার মূল চ্যালেঞ্জ। তাই আবেদন করার আগে অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।