পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ঘটেছে সাহসিকতার এক নজিরবিহীন কাহিনী। পরিবারের মা ও দুই ছোট ভাই-বোন যখন উত্তাল সমুদ্রে ভেসে যাচ্ছিলেন, তখন ১৩ বছর বয়সি এক কিশোর ৪ ঘণ্টা ধরে সাঁতরে তাদের তীরে ফিরিয়ে আনেন। এই সাহসিকতার জন্য তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ঘটনার সময় পরিবারটি কুইন্ডালুপে ছুটি কাটাতে গিয়েছিল। ইনফ্ল্যাটেবল প্যাডেলবোর্ড এবং কায়াকের মাধ্যমে সমুদ্রে থাকা অবস্থায় প্রবল বাতাসে তারা তীর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে চলে যায়।
প্রাথমিকভাবে কিশোরটি কায়াকের মাধ্যমে পরিবারের দিকে ফেরার চেষ্টা করলেও ঢেউয়ের মধ্যে সেটি ব্যবহার সম্ভব হয়নি। এরপর ৪ ঘণ্টা ধরে সাঁতরে তীরে পৌঁছে তিনি কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে সক্ষম হন।
ন্যাচারালিস্ট মেরিন রেসকিউ কমান্ডার পল ব্রেসল্যান্ড জানান, ৪৭ বছর বয়সী মা, ১২ বছর বয়সী ছেলে ও ৮ বছর বয়সী মেয়েকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, “কিশোরের এই প্রচেষ্টা ছিল ‘অলৌকিক’। প্রথম দুই ঘণ্টা লাইফ জ্যাকেট পরে সাঁতার কাটার পর, পরের দুই ঘণ্টা তিনি লাইফ জ্যাকেট ছাড়া সাঁতার কাটেছেন।”
সাউথ ওয়েস্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর জেমস ব্র্যাডলি বলেন, “ভাগ্যক্রমে তিনজনই লাইফ জ্যাকেট পরেছিলেন। ১৩ বছর বয়সী কিশোরের দৃঢ়তা ও সাহসই তার মা ও ভাই-বোনের জীবন বাঁচিয়েছে।”
উদ্ধার অভিযানে কিশোরের কায়াক ও প্যাডেলবোর্ডের রঙ সম্পর্কিত বর্ণনা অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী মেরিন রেসকিউ জাহাজ তাদেরকে উদ্ধার করে তীরে আনে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসেলটন হেলথ ক্যাম্পাসে নেয়া হয়।
এই কিশোরের সাহসিকতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পাতায় এখন প্রশংসিত হচ্ছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ