ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বিএনপি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ ভেঙে এক আসনে ৫৫ বছরের রেকর্ড গড়েছে দলটি, আরেকটি আসন পুনরুদ্ধার করেছে টানা ৩০ বছর পর।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনটি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এবার সেই আসনেই ৫৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।
পোস্টাল ভোটসহ তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। ফলে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হন। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৮ জন। দুই উপজেলায় মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৭২ হাজার ২৯৪টি, যা প্রায় ৫৫ শতাংশ। ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, হাজী মুজিবের দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং কৃষি সহায়তা ও ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি—এই বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে দীর্ঘ ৩০ বছর পর আসন পুনরুদ্ধার করেছে বিএনপি। দলটির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ শওকতুল ইসলাম শকু ৬৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এম সায়েদ আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট। ফলে ১৪ হাজার ৯২৩ ভোটের ব্যবধানে শকু বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ২০। ১০৪টি ভোটকেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮১৯। বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ২১৮ এবং বাতিল ভোট ৪ হাজার ৬০১। ভোটের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
ফলাফল ঘোষণার পর কুলাউড়া উপজেলাজুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠিত প্রচারণা, দীর্ঘদিনের তৃণমূলভিত্তিক কার্যক্রম এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা-সিলেটের এই দুই আসনে বিএনপির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে।