যুক্তরাজ্য ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির সব ভিজিটর ভিসা সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা ‘ই–ভিসা’ আকারে ইস্যু করা হবে। দেশটির হোম অফিস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য ভিজিটর ভিসা প্রয়োজন হবে, তারা আর পাসপোর্টে ভিসা স্টিকার, বায়োমেট্রিক রেসিডেন্স পারমিট (বিআরপি) বা হাতে দেওয়া ইমিগ্রেশন সিল পাবেন না। পরিবর্তে ভিসাসংক্রান্ত সব তথ্য অনলাইনে সংরক্ষিত থাকবে এবং তা যুক্ত থাকবে UK Visas and Immigration (ইউকেভিআই)-এর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে।
এই পদক্ষেপটি যুক্তরাজ্যের ‘ডিজিটাল বর্ডার’ কর্মসূচির অংশ। এর আওতায় ইতোমধ্যে অভিবাসীদের জন্য প্রচলিত বিআরপি কার্ড বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ভিসামুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য চালু করা হচ্ছে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ)।
ই–ভিসা ব্যবস্থার ফলে বিমান, ফেরি ও রেল অপারেটররা তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীর ভিসা অনুমোদন, কাজ বা পড়াশোনার অনুমতি এবং অবস্থানের শর্ত যাচাই করতে পারবে। এ উদ্দেশ্যে গত এক বছরে পরিবহন সংস্থাগুলো তাদের চেক-ইন সিস্টেম নতুন ‘ক্যারিয়ার চেক এপিআই’-এর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীদের পাসপোর্ট অবশ্যই তাদের ইউকেভিআই অনলাইন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। অন্যথায় বোর্ডিংয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে বিদ্যমান ভিসাধারীদের এসএমএস ও ইমেইলের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো শুরু হয়েছে।
অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তির ঝুঁকি রয়েছে। তারা ভ্রমণের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে লগইন করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন।
নতুন ব্যবস্থার ফলে ভিসা স্টিকারের মেয়াদ সংক্রান্ত ঝুঁকি কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিয়োগদাতাদের জন্য কিছু প্রশাসনিক দায়িত্ব বাড়বে। মানবসম্পদ বিভাগকে নিশ্চিত করতে হবে যে কর্মীদের ইউকেভিআই অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে, পাসপোর্টের তথ্য হালনাগাদ আছে এবং ‘রাইট টু ওয়ার্ক’ যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় শেয়ার কোড তৈরি করা যাচ্ছে।
ইউকেভিআই কর্তৃপক্ষের দাবি, ডিজিটাল ভিসা চালুর ফলে নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং জালিয়াতি কমবে। তবে তথ্য সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বলছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কেউ বোর্ডিং থেকে বঞ্চিত হলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থা চালুর প্রথম কয়েক মাস ভ্রমণকারীরা যেন ভিসা অনুমোদনের ইমেইল বা শেয়ার কোডের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে রাখেন, যাতে প্রয়োজনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে দেখানো যায়।