জানুয়ারিতে সিলেট বিভাগে ২৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে সারা দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৮৭ জন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ১৯৪ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ জন শিশু রয়েছে। তবে বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে তুলনামূলক কম প্রাণহানির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে সিলেট বিভাগ।
বৃহস্পতিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সিলেট বিভাগ–এ ২৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যা দেশের বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে রাজধানী ঢাকা-তে ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছেন। আর সর্বোচ্চ ১৪৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগ-এ, যেখানে প্রাণহানি হয়েছে ১১৯ জনের।
সারা দেশে নিহতদের মধ্যে ১৯৬ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। জানুয়ারিতে ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়েছেন। ৪১টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩২ জন এবং আহত হয়েছেন ১৭ জন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি পেছন থেকে আঘাত এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। সড়কের ধরন অনুযায়ী ১৫৬টি জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ও বেতন কাঠামোর অভাব, ট্রাফিক আইন অমান্য, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, মহাসড়কে সার্ভিস রোড ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
সার্বিকভাবে দেশের সড়ক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও জানুয়ারির পরিসংখ্যানে কম প্রাণহানির মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে সিলেট বিভাগ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ।