Uk Bangla Live News | Stay updated with UK Bangla Live News

রোজা অবস্থায় নাক–কান–গলার চিকিৎসা: কী করবেন, কী করবেন না

ডেস্ক সংবাদ

পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা ইবাদত ও সংযমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির চর্চা করেন। এই সময় স্বাস্থ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নাক–কান–গলার (ইএনটি) সমস্যার সময় রোজা রেখে চিকিৎসা নেওয়া যাবে কি না—এটি প্রায়ই রোগীদের জন্য প্রশ্ন হয়ে ওঠে। নাকের স্প্রে, কানের ড্রপ, গড়গড়া বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় জানা জরুরি।

টনসিল প্রদাহ ও গলার সংক্রমণ:
টনসিল প্রদাহ বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া প্রয়োজন হয়। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দিনে এক বা দুইবার, আবার কিছু তিন–চারবার গ্রহণ করতে হয়। রমজানে চিকিৎসক সচেতনভাবে এমন ওষুধ বেছে নেন যা ইফতার ও সাহ্‌রির সময়ে নেওয়া যায়। প্রয়োজনে ওষুধের ডোজ ও সময় সমন্বয় করা হয়। রোজা রেখে শিরায় (ইনজেকশন) অ্যান্টিবায়োটিক নেওয়া যায়, তবে শক্তি বাড়ানোর জন্য কিছু তরল শিরাপথে দেওয়া ঠিক নয়।

গড়গড়া করার সময় সতর্কতা:
গলার ব্যথা বা দুর্গন্ধ দূর করার জন্য অনেকেই দিনে গড়গড়া করতে চান। তবে রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় এটি নিরুৎসাহিত। কারণ, অল্প পরিমাণ পানি বা ওষুধ অনিচ্ছাকৃতভাবে গলায় গিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছালে রোজা ভঙ্গ হতে পারে। ইফতার বা সাহ্‌রির পরে গড়গড়া করা নিরাপদ।

সাইনোসাইটিস ও নাকের সমস্যা:
সাইনোসাইটিসে নাক বন্ধ থাকা, মাথাব্যথা ও নাক দিয়ে পুঁজ পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। এই ক্ষেত্রে নাকের ড্রপ বা স্প্রে দরকার হয়। রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সাহ্‌রি বা ইফতারের পর ব্যবহার করাই উত্তম। পানিশূন্যতা হলে মাইগ্রেন বা মাথাব্যথা বেড়ে যেতে পারে, তাই যথেষ্ট পানি গ্রহণ করা জরুরি।

কানের সমস্যা:
কানের সংক্রমণে কানের ড্রপ দেওয়া হয়। সাধারণভাবে মনে করা হয়, কানে ওষুধ দিলে রোজা ভাঙে না। তবে যদি কানের পর্দায় ছিদ্র থাকে, ড্রপ গলায় পৌঁছতে পারে। তাই রোজা অবস্থায় কানের ড্রপ না দিয়ে সাহ্‌রি ও ইফতারের পরে ব্যবহার করা উত্তম।

শরিয়াহর দৃষ্টিকোণ:
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পদার্থ পাকস্থলীতে গেলে রোজা ভেঙে যায়। নাকের মাধ্যমে তরল পাকস্থলীতে পৌঁছাতে পারে, তাই রোজা থাকলে নাক দিয়ে তরল প্রবেশ করানো থেকে বিরত থাকা নিরাপদ।

সিদ্ধান্ত:
রমজানে নাক–কান–গলার চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব, তবে পরিকল্পিত ও সচেতনভাবে। চিকিৎসক ও রোগীর সমন্বয়ে চিকিৎসা করলে রোগ নিরাময় হয় এবং রোজাও অক্ষুণ্ণ থাকে। সুস্থ শরীর ইবাদতের সহায়ক—এই কারণে চিকিৎসা ও ইবাদত—দুটোকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

লেখক:
ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী
নাক–কান–গলা বিশেষজ্ঞ ও হেড-নেক সার্জন,
সহকারী অধ্যাপক, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Print
Email

সর্বশেষ সংবাদ

images (4)
রোজা অবস্থায় নাক–কান–গলার চিকিৎসা: কী করবেন, কী করবেন না
রোজা অবস্থায় নাক–কান–গলার চিকিৎসা: কী করবেন, কী করবেন না
135526_143
যুক্তরাজ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের খরচ কেমন
যুক্তরাজ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের খরচ কেমন
d467e6223df27a01f9bc68242a0f6f38-69973ec624ed1
৬৫ শতাংশ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু চরম দারিদ্র্যে
৬৫ শতাংশ ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিশু চরম দারিদ্র্যে
gsmarena_003-26b43f7f2156631a3ddd4b43a04b483e
কিশোর বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য
কিশোর বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য
a3005d0c2b35efa731e69097c7b37a5f-6992e8629ccac
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়েও দীর্ঘ দায়িত্বে ‘চিফ মাউজার’ ল্যারি
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের চেয়েও দীর্ঘ দায়িত্বে ‘চিফ মাউজার’ ল্যারি
ChatGPT-Image-Feb-19-2026-04_54_11-PM
বাংলাদেশ–সৌদি ঈদ ভিন্ন দিনে: কারণ কী
বাংলাদেশ–সৌদি ঈদ ভিন্ন দিনে: কারণ কী

সম্পর্কিত খবর