সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও নারায়নগঞ্জে যৌথ অভিযান চালিয়ে লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফি (৫৯) হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ বলছে, হত্যাটি ছিল ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে পরিকল্পিত।
নিহত শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে। প্রায় ৩০ বছর তিনি লন্ডনে বসবাস করলেও পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর, ৩ ফেব্রুয়ারি, তার মরদেহ জকিগঞ্জ থানাধীন কোনারবন্দ হাওর বিলপাড়ে উদ্ধার করা হয়। মরদেহ আগুনে পোড়ানো এবং গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশে লবণের একটি প্যাকেটও ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার ঘটনায় জড়িত তিনজন হলেন- সিলেটের জকিগঞ্জের ইলাবাজ গ্রামের আব্দুস সামাদ দুলনের ছেলে সাব্বির আহমদ (২১), নারায়নগঞ্জের পূর্বাচল এলাকার সৈয়দ মুহিবুর সামাদ শাহীনের ছেলে সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ শোভন (২০), জকিগঞ্জের ঘেচুয়া গ্রামের আবদুল হকের ছেলে তাহিরুল হক (২০)।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন বলেন, গ্রেফতার অভিযানটি গত ২০ ও ২১ ফেব্রুয়ারি পৃথকভাবে পরিচালনা করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে অন্যান্য আসামিরও পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। অভিযানের মধ্যে নিহত শফির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ হত্যার আলামত জব্দ করা হয়েছে।
পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, পরিকল্পিত হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দিতে চেষ্টার পাশাপাশি যাতে পরিচয় শনাক্ত করা না যায়, সেটি লক্ষ্য করা হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের তৎপরতার কারণে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনার পর পিবিআই এবং সিআইডি যৌথভাবে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে।
গ্রেফতারকৃত সাব্বির আহমদ ও সৈয়দ শোভন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামী তাহিরুল হককে শফির ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ তার শ্বশুর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আলামত জব্দ এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের অভিযান এখনো অব্যাহত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শফির সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব চলছিল। হত্যার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হত্যার পর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং তদন্তে এলাকাবাসীর সহায়তাও নেয়া হয়েছে।
নিখোঁজ শফির পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পরও শফি নিয়মিত পরিবারে খোঁজ-খবর নিতেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা শোকাহত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং হত্যার পেছনের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে।