মানবতার সেবা মহৎ কাজ। প্রয়োজন অনুযায়ী কারও জীবন রক্ষা করা বা প্রয়োজন পূরণ করা অনন্য সওয়াবের কাজ। এতে মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। অনেক সময় রক্তের তাত্ক্ষণিক প্রয়োজন হয়, আর সময়মতো রক্ত না পাওয়া কষ্টের মাত্রা একজন রোগীই ভালো বোঝেন।
মুফতি জাকারিয়া হারুন জানান, রোজা থাকা অবস্থায় প্রয়োজনে নিজের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া বা অন্য কারও জন্য রক্তদান করলে রোজা নষ্ট হবে না। কারণ, রক্ত দেওয়ার সময় কোনো বস্তু দেহের ভিতরে প্রবেশ করে না।
ফুকাহায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন, রোজা অবস্থায় নিজের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া বা অন্য কাউকে রক্ত দেওয়া শরীরের উল্লেখযোগ্য প্রধান নালির মাধ্যমে হয় না; বরং ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। সুতরাং রোজার ক্ষতি হয় না।
তবে বেশি পরিমাণে রক্ত দেওয়া মাকরুহ হিসেবে গণ্য, কারণ তা শরীরে দুর্বলতা সৃষ্টি করতে পারে। (আল কাসানি ২/৯২, ইবনে আবিদিন ৩/৪০০, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২০০)
নবীজি মুহাম্মদ (স.)ও রোজা থাকা অবস্থায় সিঙ্গা করেছেন, যা হাদিসে বর্ণিত। সিঙ্গার মাধ্যমে শরীরের বিষাক্ত রক্ত বের করা হয়। তাই রোজা রেখে নিজের টেস্ট বা পরীক্ষা করার জন্য, কিংবা অন্য কারও জন্য রক্ত দিলে রোজার ক্ষতি হবে না।