সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কের এয়ারপোর্ট থেকে সালুটিকর অংশ—দিনে স্বাভাবিক যানচলাচল, আর সন্ধ্যা নামলেই ভিন্ন চিত্র। রাস্তার পাশের ছোট ছোট টং দোকানগুলো যেন পরিণত হয় মাদকের আখড়ায়। অভিযোগ, হাত বাড়ালেই মিলছে ফেনসিডিল ও ইয়াবা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে লালবাগ, সিঙ্গারপুল ও সালুটিকর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই মোটরবাইক, প্রাইভেটকার ও সিএনজির আনাগোনা বাড়তে থাকে। শহর ও শহরতলী থেকে আসা তরুণ ও মধ্যবয়সীদের ভিড়ে জমে ওঠে কয়েকটি নির্দিষ্ট টং দোকান। গভীর রাত পর্যন্ত চলে অবস্থান।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ থেকে নদীপথে সালুটিকর ঘাট হয়ে মাদক আনা হয়। পরে এসব টং দোকানে গোপনে মজুদ রাখা হয়। চায়ের আড়ালে ফেনসিডিল সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। কথিত আছে, এক কাপ ‘চায়ের’ দাম কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়—যার ভেতরেই থাকে মাদক।
সালুটিকর ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে অসংখ্য ফেনসিডিলের খালি বোতল। স্থানীয়দের দাবি, সিঙ্গারপুল এলাকার একটি দোকানের পাশের কক্ষে ইয়াবা সেবনেরও ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানকে কেন্দ্র করেই প্রতিদিন শতাধিক মানুষের সমাগম ঘটে বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এসব মাদকসেবীদের একটি অংশ শহরের ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবাদ করেও মিলছে না প্রতিকার।
সড়কের বাইপাস অংশে প্রশাসনের চেকপোস্টে মাঝেমধ্যে মাদক উদ্ধার হলেও টং দোকানকেন্দ্রিক এসব আড্ডায় দৃশ্যমান অভিযান নেই—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এমনকি পবিত্র রমজান মাসেও থামেনি এই কর্মকাণ্ড।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ টং দোকান উচ্ছেদ এবং মাদক কারবারীদের আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।