ইংল্যান্ডে চিকিৎসকদের সংগঠন ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এবং সরকারের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় রেসিডেন্ট ডাক্তারদের ছয় দিনের ধর্মঘট বর্তমানে চলমান রয়েছে।
বিএমএ জানিয়েছে, বেতন বৃদ্ধি ও চাকরির সংকট নিয়ে তাদের উদ্বেগের যথাযথ সমাধান না হওয়ায় তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। নতুন বছরের শুরু থেকে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলার পর শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ায় ধর্মঘটে যেতে হয়েছে।
ইস্টার ব্যাংক হলিডের পর ৭ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে, যা ২০২৩ সালের মার্চের পর থেকে চিকিৎসকদের ১৫তম ধর্মঘট। চলমান এ ধর্মঘটটি এই বিরোধের দীর্ঘতম কর্মসূচিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকার এ বছর চিকিৎসকদের জন্য ৩.৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও বিএমএ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে এই বৃদ্ধি যথেষ্ট নয় এবং এতে প্রকৃত আয় বাড়বে না।
এছাড়া সরকার পরীক্ষার ফি বহন, প্রশিক্ষণ পদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দেয়। তবে বিএমএ মনে করছে, এসব প্রস্তাব বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারছে না।
বিএমএ-এর প্রতিনিধি ডা. জ্যাক ফ্লেচার বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, ফলে এই প্রস্তাব চিকিৎসকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি না করে বরং ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক চিকিৎসক ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ছেড়ে অন্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বিএমএ-এর অবস্থানকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, সরকার চিকিৎসকদের জন্য যথাসম্ভব ইতিবাচক প্রস্তাব দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এ কর্মরত চিকিৎসকদের বড় একটি অংশই রেসিডেন্ট ডাক্তার, যাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিএমএ-এর সদস্য।