স্বপ্নের ইউরোপ যাত্রায় লিবিয়া থেকে গ্রিসগামী ১২ যুবক ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। প্রতিটি পরিবারই দালালের লোভনীয় ফাঁদে আটকা পড়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিজন যুবক ১২–১৩ লাখ টাকা দালালের হাতে দিয়েছিলেন।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা মৃতদেহ পাওয়ার শেষ আকুতি জানাচ্ছেন এবং দালালদের বিচার দাবি করছেন। শুধুমাত্র দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার নয়, জেলার সব উপজেলায় দালালের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। লিবিয়ার জিম্মিদশায় থাকা যুবকরা ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করার শিকার হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জন রয়েছে। পরিবারগুলোর অভিযোগ, নৌযানে উঠানোর আগে ও পরে খাবার ও নিরাপত্তা না দেয়ায় যুবকেরা মারা গেছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ জানান, প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পুলিশকে মামলার জন্য প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার বলেছেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে, দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে লাশ ফেরানোর প্রক্রিয়া সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দেখভাল করবেন।