মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর ইরানবিরোধী অবস্থানের পর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার জেরে দেশটিতে জ্বালানির মূল্য প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান Easter ছুটিতে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে বের হওয়া অনেক নাগরিক উচ্চ জ্বালানি দামের কারণে বিপাকে পড়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৪৩ পেন্স বেড়ে গড়ে ১৮৫.২৩ পেন্সে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। শুধু গত সপ্তাহেই প্রায় ৯ পেন্স দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, পেট্রোলের দামও বেড়ে গড়ে ১৫৪.৪৫ পেন্সে দাঁড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকট। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
এদিকে, গাড়িচালকদের জ্বালানি সাশ্রয়ের পরামর্শ দিয়েছেন আরএসি’র নীতি প্রধান Simon Williams। তিনি বলেন, সস্তা পেট্রোল পাম্প খুঁজে পেতে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করা এবং ধীর ও নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানো হলে কিছুটা খরচ কমানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারেও তেলের দাম বেড়েছে। বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৮.২ শতাংশ বেড়ে ১০৯.৫০ ডলারে পৌঁছেছে, আর ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯.৩৫ ডলারে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি।