যুক্তরাজ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে এক নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘সোশ্যাল কুলিং’ বা ডিজিটাল শীতলতা বলে উল্লেখ করছেন। দিন দিন মানুষ প্রকাশ্যে নিজের মতামত বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করা থেকে সরে এসে নীরব দর্শকের ভূমিকায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পোস্ট, মন্তব্য ও শেয়ার করার হার কমে প্রায় ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
প্রথমবারের মতো দেশটির অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারী এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষ্ক্রিয়। এর পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অনলাইনে প্রকাশিত তথ্যের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ। অনেকেই মনে করছেন, তাদের মতামত ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে স্থায়ী পোস্টের বদলে অস্থায়ী ‘স্টোরি’ কিংবা ব্যক্তিগত মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ছে।
যদিও Facebook এখনও যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম, তবে এর ব্যবহার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। ব্যবহারকারীরা এখন আর নিয়মিত স্ট্যাটাস দেন না; বরং মার্কেটপ্লেস ও কমিউনিটি গ্রুপে প্রয়োজনভিত্তিক কাজে এটি বেশি ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকছে TikTok ও YouTube-এর দিকে।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। ChatGPT ও Gemini-এর মতো টুলের ব্যবহার এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি। অনেকেই এখন মানসিক সঙ্গ বা একাকিত্ব কাটাতেও এসব প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি হওয়ায় তারা অ্যালগরিদমের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছেন। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়ার মন্তব্যের জায়গাগুলো ক্রমশ চরমপন্থী মতাদর্শীদের দখলে চলে যাচ্ছে, কারণ সাধারণ ব্যবহারকারীরা সেখানে কম সক্রিয়।
বর্তমানে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও কনটেন্ট—যেমন রিলস ও টিকটক—প্রধান বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশরা সোশ্যাল মিডিয়াকে অনেকটাই টেলিভিশনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং আগের তুলনায় আরও বেশি সময় অনলাইনে কাটাচ্ছেন।
যদিও অনেকেই অতিরিক্ত সময় মোবাইল ব্যবহারের কথা স্বীকার করছেন, তবুও এই প্রবণতা কমার লক্ষণ নেই। ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া আরও ব্যক্তিগত হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে WhatsApp বা Discord-এর মতো সীমিত পরিসরের যোগাযোগ মাধ্যমই বেশি গুরুত্ব পাবে।