যুক্তরাজ্যের সাউথ লন্ডন ও ম্যানচেস্টারের রাস্তায় কিশোর-তরুণদের হঠাৎ জমায়েত ও বিশৃঙ্খলার পেছনে এক ধরনের অদৃশ্য ডিজিটাল নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবর্তিত সময়ে দেশটির রাজপথ যেন অ্যালগরিদম-চালিত অস্থিরতার নতুন মঞ্চে পরিণত হচ্ছে।
ক্ল্যাপহ্যাম হাই স্ট্রিট ও রচডেল টাউন সেন্টারে সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেছে, হঠাৎ করেই শত শত তরুণ জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। ‘ক্ল্যাপহ্যাম কোর্ট লিঙ্ক-আপ’ নামে পরিচিত এই জমায়েতগুলোকে সাধারণ বিনোদন নয়, বরং সুপরিকল্পিত সমন্বিত কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ক্ল্যাপহ্যামের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে এবং জরুরি সেবাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথাকথিত ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ জমায়েত আসলে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্ররোচনায় ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সামনে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় গোয়েন্দাদের ধারণা, এই ঘটনাগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সক্ষমতা যাচাইয়ের এক ধরনের ‘স্ট্রেস টেস্ট’ও হতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক বিশেষজ্ঞ জানান, ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা ও আধুনিক ডিজিটাল উসকানির একটি অস্বাভাবিক মিশ্রণ এখানে কাজ করছে। অ্যালগরিদমের সহায়তায় এসব গোষ্ঠী দ্রুত সংগঠিত হচ্ছে, যা সাধারণ সামাজিক ট্রেন্ডের বাইরে। বিস্ময়করভাবে, অনেক উসকানিমূলক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
যদিও সরাসরি বিদেশি কোনো চক্রান্তের প্রমাণ এখনো মেলেনি, তবু স্থানীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব স্পষ্ট। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ‘অদৃশ্য প্রভাব’ বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব ‘লিঙ্ক-আপ’ কর্মসূচি এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মূল নিরাপত্তা কাজ থেকে বিচ্যুত করছে এবং জনমনে বিশৃঙ্খলার চিত্র তুলে ধরছে—যা রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবাদের ধরনও বদলাচ্ছে। প্রচলিত মিছিলের পরিবর্তে ‘ফ্ল্যাশ-মব’ কৌশলে নির্দিষ্ট এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন ঘটানো হচ্ছে। রচডেলে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হয়রানির ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়েছে, যার ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে সাময়িক স্থবিরতা নেমে আসে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এসব ঘটনাকে খেলা মনে করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট নেতৃত্বের অভাব প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখন ডিজিটাল প্রতিরোধের দিকেও নজর দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র দফতর ‘রেসপেক্ট অর্ডার’ চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্দার আড়ালে থেকে এসব জমায়েত সংগঠিত করা ডিজিটাল প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, শুধু অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনই সমাধান নয়; বরং স্থানীয় প্রশাসন ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে আইনি সমন্বয়ের মাধ্যমে আগেভাগেই উসকানি বন্ধ করাই হবে পরবর্তী লক্ষ্য।