রাজধানীর লালবাগ থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার রিমান্ড ও জামিন—দুই আবেদনই নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ মামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের জামিন আবেদনও খারিজ করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় লালবাগের আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে আন্দোলনকারী মো. আশরাফুল ফাহিম গুরুতর আহত হন। তিনি গত বছরের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার পরিকল্পনায় পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান। এই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। ডিবির কর্মকর্তারা জানান, তার বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট হত্যাসহ মোট ছয়টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কিছু মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে এবং বাকিগুলো চলমান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করলে পরদিন সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। এর ফলে শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ সদস্য পদ হারান। পরে ২ সেপ্টেম্বর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং পরবর্তীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।