গত মাসে নেপালের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যখন তরুণ নেতা বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। দেশটির পার্লামেন্টেও এখন তরুণদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের তরুণরাও একসময় রাজপথ কাঁপিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। তবে সেই আন্দোলন প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেয়নি। এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা তরুণদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি, যেখানে বিএনপি ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
নেপালের নির্বাচনে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) মাত্র চার বছরের মধ্যে বিপুল ভোটে জয় পায়। এতে কয়েকজন জেন-জি রাজনীতিক পার্লামেন্টে জায়গা করে নেন, এবং আরএসপির সঙ্গে জোট করা বালেন্দ্র শাহ নেপালের নেতৃত্বে আসেন।
নেপালের সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে তরুণ নেতারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ, ধারাবাহিকতা, এবং বিশ্বাসযোগ্য দলীয় কাঠামোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। কৈলালি অঞ্চলে জয়ী আরএসপি প্রার্থী কেপি খানাল বলেন, “আমাদের বারবার জবাবদিহিতা ও ন্যায়ের কথা তুলে ধরার ফলে মানুষ আস্থা স্থাপন করেছে এবং আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের তরুণ আন্দোলন নেপালের তুলনায় পিছিয়ে ছিল কারণ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য, শক্তিশালী দলগুলোর সাথে জোট, অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে। জাতীয় নাগরিক পার্টি ছোট আকারের থাকায় এবং রক্ষণশীল শক্তির সঙ্গে জোট বেঁধে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে সুবিধা দিয়েছে। ফলে অনেক তরুণ সমর্থক দূরে সরে গেছে।
তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশে তরুণরা তাদের আন্দোলনের জ্বালায় রাজনৈতিক সংস্কারের সূচনা করেছে। নেপালের তরুণ পার্লামেন্ট সদস্যরা নতুন সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন। বাংলাদেশেও কিছু নেতার মতে, এনসিপি যদি মানুষের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে, ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারবে।
উমামা ফাতেমা বলেন, “সম্ভবত বাংলাদেশের পরবর্তী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবে জেনারেশন আলফা।”
নেপালের উদাহরণ ও বাংলাদেশের বাস্তবতা দেখায়, তরুণ নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক শক্তি ছাড়া আন্দোলন নির্বাচন জয়ের সঙ্গে মিলিয়ে কার্যকর হতে পারে না।