ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে বলে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল অর্থ ব্যয় করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ব্যয় প্রায় ৮৯০ মিলিয়ন ডলার। ঘণ্টায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার, আর প্রতি সেকেন্ডে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
স্টকহোমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসআইপিআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল ব্যয়ের বড় অংশ যাচ্ছে যুদ্ধাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের পেছনে। দৈনিক ব্যয়ের প্রায় ৩৬ শতাংশ শুধু গোলাবারুদ ও অস্ত্র ব্যবহারে খরচ হচ্ছে। বিমান অভিযানেও ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার, নৌ কার্যক্রমে ১৫৫ মিলিয়ন ডলার এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া গোয়েন্দা ও সাইবার কার্যক্রমে ৪৫ মিলিয়ন ডলার এবং জনবল ও রসদে আরও প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে প্রতিদিন।
অন্যদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) বলছে, অভিযানের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। ৪১তম দিন পর্যন্ত মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৩৬.৯৪ বিলিয়ন ডলারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, এই যুদ্ধের ব্যয় অতীতের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের তুলনায়ও বেশি, যা এটিকে ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল মার্কিন সামরিক অভিযানে পরিণত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিমাণ অর্থ দিয়ে বিপুল সামাজিক খাতে বিনিয়োগ সম্ভব ছিল—যেমন লাখো শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বৃত্তি, হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানি প্রকল্প এবং আবাসন নির্মাণ।