যুক্তরাজ্যের ডানপন্থি রাজনৈতিক দল Reform UK-এর হয়ে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে প্রার্থী করা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিষয়টি জাতীয় পরিচয় ও ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে পুরোনো আলোচনাকে আবার সামনে এনেছে।
২৩ বছর বয়সী অ্যাডি মো. আসাদুজ্জামান, যিনি ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন’ সুবিধা নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে সেন্ট্রাল সাউথসি ওয়ার্ড থেকে দলটির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। দলটি এই সিদ্ধান্তকে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকরা এটিকে সাংঘর্ষিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের একটি দলের হয়ে একজন অভিবাসীর প্রার্থী হওয়া রাজনৈতিক দ্বৈততার ইঙ্গিত দেয়।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন গ্রেট ইয়ারমাউথের সংসদ সদস্য Rupert Lowe, যিনি বর্তমানে Restore Britain-এর নেতৃত্বে রয়েছেন, এই মনোনয়নের সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে ভোটারদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিদেশি নাগরিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিপন্থী।
এদিকে, ‘ব্রিটেন ফার্স্ট’ নীতিতে বিশ্বাসী দলটির স্থানীয় শাখার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে থাকা এই দলের হয়ে অভিবাসী প্রার্থী দেওয়ায় সমালোচনা বাড়ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এতে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে একজন প্রার্থী এমন নীতির পক্ষেই প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা তার নিজের অবস্থানকেও ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
তবে দলটির নেতৃত্ব তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। কাউন্সিলর জর্জ ম্যাডউইক সমালোচনাগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসাদুজ্জামানকে ‘সঠিক ধরনের অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও এই মন্তব্য বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
জনমতেও বিষয়টি নিয়ে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে আত্মবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত বা দলীয় দ্বন্দ্বের প্রতিফলন বলেও মনে করছেন।
অন্যদিকে, Restore Britain দলটি সেন্ট্রাল সাউথসি ওয়ার্ডে আসাদুজ্জামানের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।